নারায়ণগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বন্দরের মদনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাই পথে আসা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিসসহ মো: মিকাইল হোসেন ওরফে রয়েল (৩১) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১১)।
রোববার (২ জুন) রাতে র্যাব-১১ এর আদমজী সদর দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সংস্থাটির অফিসার মো: গোলাম মোর্শেদ।
র্যাব জানিয়েছে, জব্দকৃত এসব ভারতীয় পোশাকের বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা। এ সময় অভিযানে একটি কাভার্ডভ্যানও জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, গত শনিবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন্দরের মদনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি কাভার্ডভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ এই শাড়ি ও থ্রি-পিসের চালানটি জব্দ করা হয়।
র্যাব আরো জানায়, চোরাকারবারিরা ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিসের বড় একটি চালান কুমিল্লা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১ ব্যাটেলিয়নের একটি আভিযানিক দল বন্দর উপজেলার মদনপুর এলাকায় রাফি ফিলিং স্টেশনের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে। তল্লাশির একপর্যায়ে একটি সন্দেহজনক কাভার্ডভ্যানকে থামার সঙ্কেত দিলে চালক মিকাইল হোসেন পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় র্যাব ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করে। পরে কাভার্ডভ্যানটি তল্লাশি করে অবৈধ ৩৯৭১ পিস ভারতীয় শাড়ি এবং ৩৫৪ পিস ভারতীয় থ্রি-পিস জব্দ করা হয়। এসব বিদেশী পণ্যের কোনো বৈধ চালান দেখাতে পারেননি চালক মিকাইল হোসেন রয়েল, যিনি যশোর জেলার মনিরামপুর থানার পলাশী গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
মিকাইলকে জিজ্ঞাসাবাদে চোরাকারবারির কথা স্বীকার করে তিনি জানান, জব্দকৃত শাড়ি ও থ্রি-পিসগুলো ভারত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। জব্দকৃত ভারতীয় শাড়িগুলোর বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা এবং থ্রি-পিসগুলোর মূল্য ২২ লাখ টাকা।
মিকাইলের ভাষ্য অনুযায়ী, কাভার্ডভ্যানটির মালিক আরিফ মজুমদার এবং মিকাইল গত সাত থেকে আট মাস ধরে মাসিক ২০ হাজার টাকা বেতনে চালক হিসেবে কর্মরত আছেন।
আরিফ মজুমদারের ম্যানেজার খোরশেদসহ আরো বেশ কয়েকজন এই চোরাকারবারের সাথে জড়িত বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
এ ঘটনায় আটক কাভার্ডভ্যানের চালক মিকাইল হোসেন রয়েলসহ চোরাকারবারির সাথে জড়িত পলাতক আরিফ মজুমদার, তার ম্যানেজার খোরশেদ এবং অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে র্যাব জানিয়েছে।