নেত্রকোনার কেন্দুয়া ও দ্বীপ হাওর খালিয়াজুরি উপজেলায় সংঘর্ষে শতাধিক ব্যক্তি আহত, বাড়িঘর ভাংচুর, আগুন ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২ এপ্রিল) দুপুরে কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল-ছবিলা ও খালিয়াজুরি উপজেলার পাচঁহাট-বড়হাটি গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়।
আহতদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ, দমকল বাহিনীর সদস্য ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল দক্ষিণপাড়া গ্রামের তাহাজ্জত মিয়া ও ছবিলা গ্রামের হাজহারুল মিয়ার মধ্যে কোনো এক তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঈদের দিন বাগবিতন্ডা হয়। এরই জের ধরে মাইকিং করে বুধবার দুপুরে উভয় গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। মুসলিম উদ্দিন, সাখাওয়াত হোসেন, সাইদুর রহমান, সফিকুল ইসলামসহ অর্ধশত লোক আহত হন। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে একই সময়ে খালিয়াজুরি উপজেলার পাঁচহাট-বড়হাটি গ্রামে জমিতে পানি সেচ দেয়াকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য হারুন মিয়া ও মোশারফ হোসেনের লোকজনের মধ্যে বাগবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দু’ গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র ও লাঠসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ, দমকল বাহিনীর সদস্য ও সেনাবাহিনী কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এখানেও কমপক্ষে অর্ধশত লোক আহত হলে তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যায় এই রিপোর্ট লেখাকালীন উভয় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল।
খালিয়াজুরি থানার ওসি মো: মকবুল হোসেন বলেন, ‘সংঘর্ষে একাধিক আহত ব্যক্তিকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’
কেন্দুয়া থানার ওসি মো: মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘সংঘর্ষে ১৫-২০ জন আহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।’