সিলেটের সুনামগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান যোদ্ধার চেক পেলেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সহ-সভাপতি আল হেলাল। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।
আন্দোলনকারীদের দাবি, আল হেলাল আন্দোলনের সময় সরাসরি বিরোধিতা করেছিলেন এবং জুলাইয়ে ‘আহত’ হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।
আল হেলাল সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসসের সাবেক সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি। জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেয়ায় পটপরিবর্তনের পর চাকরিচ্যুত হন তিনি।
শনিবার (১০ মে) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পালের সভাপতিত্বে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।
আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিলেও আহত সেজে সি-ক্যাটাগরির এক লাখ টাকা অনুদানের চেক প্রদান করা হয় এই আওয়ামী লীগ নেতাকে। এ খবর জানার পর আহতদের তালিকা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে জেলায়।
অনেকে বলছেন, শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিস্মিত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। যাচাই বাছাই নিয়ে প্রশ্ন উঠায় একে অপরকে দোষারোপ করছেন প্রশাসন ও বৈষম্যবিরোধীরা।
আল হেলাল আওয়ামী লীগ নেতার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের নেতা হিসেবে আওয়ামী লীগ আমলে জামাত-বিএনপির সমালোচক ছিলেন। যেকোনো সভা সমাবেশে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে নিজের লিখা ও সুর করা গান গেয়ে বেড়াতেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর খোলস পালটে হয়ে যান বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে জাতীয়তাবাদের আদর্শে বিশ্বাসী। দায়িত্ব পান জাতীয়তাবাদী বাউল দলের যুগ্ম আহ্বায়কের। এই কমিটি নিয়েও সমালোচনা উঠেছিল জেলাজুড়ে।
এ বিষয়ে ৭১ টেলিভিশনের সাংবাদিক শহীদ নুর আহমেদ বলেন, সুনামগঞ্জের আন্দোলনে সাংবাদিকরা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। কিন্তু যারা আন্দোলনে ছিলেন তারা কেউ তালিকাভুক্ত হওয়ার আশায় আন্দোলন করেনি। নীতি নৈতিকতার জায়গা থেকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। এখন যারা তালিকাভুক্ত হয়ে চেক নিচ্ছেন তাদের ব্যাপারে কিছু জানা নাই।
এ বিষয়ে আল হেলাল বলেন, ‘আমি কোনোদিন আওয়ামী লীগ করিনি। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের আমাদের কমিটি অনুমোদন হয়নি। আমি বাউল মানুষ তাই গান গেয়েছি। জুলাই আন্দোলনে আমি চোখে ও হাতে আঘাত পেয়েছি।
সহ-সভাপতি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা শাখার সভাপতি বাউল শাহজাহান মিয়া।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন সুনামগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব মেহেদী হাসান সাকিব বলেন, ‘আল হেলাল নামের মানুষ সুনামগঞ্জের কোথাও আন্দোলনে অংশ নেয়নি। তিনি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনেরসহ সভাপতি। আমাদের কমিটি হওয়ার আগেই প্রশাসন কিছু মানুষদের তালিকাভুক্ত করে নেয়। সেই সুযোগে হয়তো তালিকায় নাম ঢুকেছে। উনি কীভাবে তালিকাভুক্ত হলেন সেটা তদন্ত করা উচিত। এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, চেক দেয়ার পর জানতে পেরেছি উনি বিতর্কিত। এই তালিকা যাচাই বাছাই করা হয়েছে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে করা সদর উপজেলা কমিটি। তারাই বলতে পারবে কীভাবে তালিকায় নাম এসেছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতীশ দর্শী চাকমা বলেন, আমি একা যাছাই-বাছাই করিনি। আমি সবাইকে চিনিও না। একটা কমিটির মাধ্যমে রেজুলেশন করে তালিকা দেয়া হয়েছে। যেখানে বৈষম্যবিরোধীসহ অনেক সদস্য ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী কমিটির তারাই ভালো বলতে পারবেন এ বিষয়ে।