দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেছেন, ‘বাঙালি ও মুসলমান এ দুইয়ের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। অথচ সেক্যুলাররা বাঙালি ও মুসলমানদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে বিরোধ ঢুকিয়ে দিয়েছে। বাঙালি মুসলমানদের আইডেন্টিটি ক্রাইসিস, এটা আমরা করতে পারি নাই। বাঙালি মুসলমানদের রেনেসাঁর জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।’

শনিবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিলেট জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্সের আয়োজনে ‘সিলেট গণভোট ও মুসলিম ভৌগোলিক জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আল্লাহর অসীম রহমত ও সিলেটের পূর্ব পুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা যারা ভোট দিয়ে সিলেটকে পাকিস্তানে এনেছেন। পাকিস্তানে না আসলে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করতে পারতাম না। ইতিহাস আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে লেখার সুযোগ নেই। ইতিহাস সাহিত্য নয়, সাহিত্য মনের মাধুরী মিশিয়ে লেখা যায়।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা ধরে রাখতে হলে নিজেদের ইতিহাস নিজেরাই লিখতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে অবশ্যই ইতিহাস চর্চা করতে হবে। ইতিহাস চর্চা আমাদের আইডেন্টিটি। স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখতে হলে ইতিহাস, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়াতে হবে।’

এ সম্পাদক বলেন, ‘বাংলাদেশের বামপন্থী রাজনীতিবিদরা সেই ১৯৪৭ সাল থেকে বাঙালি মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। এখনকার বামপন্থীরাও বাঙালি মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাজ করে চলছে। এ বামপন্থী সবগুলো ভারতের দালাল।’

তিনি বলেন, ‘স্বদেশী আন্দোলন মূলত ছিল মুসলমানদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়টির চর্চা কম। সেক্যুলার মিডিয়ার কারণে আমরা সেই ইতিহাস চর্চা করি না। মৌলবাদী ও হিন্দুবিদ্বেষী বলবে এ ভয়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমার সোনার বাংলা রচনা করেছেন, বাংলার বিরোধিতা করে। তাদের চিন্তা শুধু নিজেদের সুবিধার জন্য। তারা বঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলন করল, আবার ৪৭ সালে ভারত ভাগের জন্য আন্দোলন করল। কলকাতার বাবুরা সবসময় নিজেদের স্বার্থ দেখেছে। নিজেদের কৃষ্টি কালচার মুসলমানদের চাপিয়ে দিয়েছে। আর ভারতপন্থী এ দেশের বৃদ্ধিজীবীরা সেটাকে এ দেশে প্রতিষ্ঠিত করেছে ‘

তিনি আরো বলেন, ‘ভারত প্রথম যে অন্যায় করেছে, সেটা হচ্ছে গুরুদাসপুর নিয়ে নিয়েছে। এটা পাকিস্তানের পাওয়া উচিত ছিল। গুরদাসপুর পাকিস্তানকে দিলে কাশ্মীর এতদিন স্বাধীন হয়ে যেত। দ্বিতীয় যে অন্যায় করা হয়েছে, করিমগঞ্জকে পাকিস্তানে দেয়া হয় নাই। ভারতের স্বার্থেই করিমগঞ্জকে পাকিস্তানে দেয়া হয়নি। করিমগঞ্জকে নিয়ে তারা দ্বিতীয় অন্যায় করেছে।’

গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মাদ আবু তাহেরের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন লেখক ও গবেষক ডা: ফাহমিদ-উর-রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: নজরুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. রাবেয়া খাতুন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) সৈয়দ আলী আহমদ, অধ্যাপক ড. রাবেয়া খাতুন, রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানি যমুনা ওয়েল’র পরিচালক সালেহ আহমদ খসরু, বাসস সিলেটের ব্যুরো প্রধান সেলিম আউয়াল, মহানগর পাবলিকেশনের চেয়ারম্যান তৌহিদুল মিনহাজ, আমার দেশ সিলেট ব্যুরো প্রধান ও সিলেট প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি খালেদ আহমদ ও আমার দেশ পাঠক মেলা সিলেটের সভাপতি ডা: হোসাইন আহমদ প্রমুখ।

সেমিনারে কায় কাউস’র ‘ঐতিহাসিক সিলেট গণভোট : পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্তির সংগ্রাম’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

পরে দোয়া পরিচালনা করেন ইবনে সিনা হাসপাতাল সিলেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ মাওলানা হাবিবুর রহমান।