গত বছর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দুই যুবকের শহীদের ঘটনার প্রায় ১১ মাস পর গত মঙ্গলবার রাতে কালিয়াকৈর থানায় দুটি পৃথক হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দুটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের ৪০০ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা হলেন- গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার আন্দারমানিক গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন (২০) এবং ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার নাওগাঁও গ্রামের শহিদুল্লাহ গাজীর ছেলে হাফিজুল ইসলাম গাজী (২৫)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৪ আগস্ট বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আনসার একাডেমির ৩ নম্বর গেটের সামনে ছাত্র ও জনতার একটি মিছিল বের হয়। ওই মিছিলে গুলিবর্ষণ ও লাঠিপেটার কারণে কয়েকজন নিহত ও শতাধিক ছাত্রজনতা আহত হয়। সেখানে হাফিজুল ইসলাম গাজী গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বছরের ৫ আগস্ট মারা যান তিনি। ওই ঘটনারি ১১ মাস পর ৩০ জুন রাতে নিহতের বড় ভাই আবদুল হামিদ গাজী কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। এ ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষেদের সভাপতি তালহা ইবনে অলি, ছগির আহম্মেদসহ ১৭ জন। তাদেরর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত মোট ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অপর ঘটনায় একই দিন উপজেলার সফিপুর আনসার একাডেমির সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন আব্দুল্লাহ আল মামুন। তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন ৫ আগস্ট পরিবারের সদস্যরা নিহতের লাশের সন্ধান পেয়ে লাশটি বাড়িতে নিয়ে যান। ছেলের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তার মা পারভীন বেগন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। যার কারণে দীর্ঘদিন ওই ঘটনায় কেউ অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেননি। ওই ঘটনায় নিহতের বন্ধু নয়ন মিয়া ৩০ জুন রাতে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।
এ ছাড়া মামলায় অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অজ্ঞাত নামা ৪০০ জন। যারা সকলেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার চৌধুরী মো: যাবের সাদেক বলেন, গাজীপুরের কালিয়াকৈর দুইজনের নিহত হওয়ার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।