শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসা নাজিরেরগাঁও সিলেটের ইনচার্জ মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার বলেছেন, বর্তমান সময়ে মেধা ও যোগ্যতায় পেছনে থাকার সুযোগ নেই। দুনিয়ায় টিকে থাকতে হলে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা জরুরি। এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদেরকে মনে রাখতে হবে পড়াশোনা শুরু হলো মাত্র। আগামীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণে নিজেদেরকে দক্ষরূপে গড়ে তুলতে হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসা নাজিরেরগাঁও শাখা সিলেটের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত তাৎক্ষণিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, কঠোর পরিশ্রম, প্রচেষ্টা ও অধ্যবসায়ে ঘাটতি থাকা কাম্য নয়। যারা জিপিএ-৫ সহ কৃতিত্বের স্বাক্ষর উপস্থাপন করেছে, তাদেরকে জানাই ফুলেল শুভেচ্ছা। যারা অনুত্তীর্ণ হয়েছে, তাদেরকে হতাশা নিরাশা থেকে দূরে থেকে আগামী দিনের সফলতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

তামাদ্দুনিক কমিটির আহ্বায়ক ও শ্রেণি শিক্ষক খোরশেদ আলম মহসিনের পরিচালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখে ইউসুফ আহমদ ফাহিম, জান্নাত আরা সানিয়া, সামিয়া আক্তার ও নাবিল জান্নাত সুমাইয়া এবং অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ক্বারী হোসাইন আহমদ।

শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা হানীফ হোসাইন, মো: শাহীন আলম, শেখ মো: ইউনুস আলী, মাওলানা আবদাল হোসাইন, সিদ্দিকুর রহমান, আজিজুর রহমান, আলাউদ্দিন, হাফিজ মেহেদী হাসান, মাওলানা আব্দুল খালিক, হাফিজ ইমরান আহমদ, মাওলানা আমীর হোসাইন, মাওলানা কায়েস আহমদ ও মাওলানা হোসাইন আহমদ।

শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করে শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান মাসুম। বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন ছাত্র সংসদের ভিপি হাফিজ ফাহাদ আহমদ, জিএস আব্দুর রাজ্জাক সৈয়দ, ছাত্রী সংসদের ভিপি রাফা আঞ্জুম ও জিএস ফেরদৌসী জান্নাত নওশীন। জামেয়ার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দ।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার বলেন, মাদরাসা শিক্ষার্থীদেরকে যুগের চাহিদার আলোকে নিজেদেরকে মেলে ধরার পাশাপাশি নৈতিক উৎকর্ষ সাধনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া অনস্বীকার্য। নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ ও পরিকল্পিত জীবন যাপনে অভ্যস্ত হতে হবে। নামাজসহ মৌলিক ইবাদাতে যত্নশীল থাকা চাই। শিক্ষক, বাবা-মা এবং বড়দের সম্মান মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বশীল হতে হবে। দেশের প্রশ্নে আপসহীন ভূমিকা রাখতে হবে। দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতার জন্য পুঁজি সংগ্রহে সিরিয়াস থাকা অপরিহার্য।