সাভারে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগ কার্যালয় থেকে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে রহস্যজনকভাবে ১৪৯টি গ্যাস মিটার চুরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) ঘটনাটি জানাজানি হলেও, গত রোববার এ ঘটনা ঘটে।
কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দাবি করছে, ঘটনার সাথে জড়িতরা বহিরাগত এবং তাদের অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এতে জড়িত নন।
জানা গেছে, এই মিটারগুলো বিভিন্ন সময়ে শিল্পকারখানা, বহুতল ভবন ও হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে খুলে এনে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন শিমুলতলায় তিতাস গ্যাস অফিসটি অবস্থিত। অফিসের চারদিকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এমন বড় ধরনের চুরির ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি এতদিন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গোপন রেখেছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতগুলো মিটার পরিবহন করতে হলে ট্রাক ছাড়া সম্ভব নয়, অথচ কারো চোখে পড়েনি বিষয়টি- এ নিয়ে তিতাস অফিসের অভ্যন্তরে নানা ধরনের কানাঘুষা চলছে। অনেক কর্মকর্তা ঘটনাটি এড়িয়ে যাচ্ছেন। এমনকি চুরির ঘটনা চার দিন পার হলেও এখনো থানায় কোনো জিডি বা মামলা করা হয়নি।
এ ব্যাপারে তিতাস গ্যাস আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগ কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (আরএমএস ইঞ্জিনিয়ারিং, টেস্টিং অ্যান্ড সিলিং শাখা) প্রকৌশলী আবদুল্লাহ হাসান আল-মামুন নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘গত ৪ তারিখ ঘটনাটি ঘটেছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চুরির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফুটেজে যতটুকু দেখা গেছে, ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তি অপরিচিত। আমাদের অফিসের কোনো কর্মকর্তা/কর্মচারী এতে জড়িত নন।’
তিনি চুরি হওয়া মিটারের সংখ্যা ১৪৯টি বলে নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিতাস গ্যাস কার্যালয়ের নিরাপত্তা প্রধান হাবিল উদ্দিন বলেন, ‘এ মিটার চুরি হওয়ার ঘটনাটি তিনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন। এ ব্যাপারে মামলা করার জন্য প্রস্তুতি চলছে।’
এই ঘটনায় তিতাস গ্যাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এতগুলো মিটার কিভাবে সকলের অগোচরে অফিস থেকে সরানো হলো এবং কেনই বা বিষয়টি এতদিন গোপন রাখা হলো, তা তদন্ত সাপেক্ষ বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।