বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাথে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনে সরকার সব সময় তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের অতিরিক্ত কমিশনার শামসুদ দৌজা।
বুধবার (২৮ মে) সকালে শহরের একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে বেসরকারি সংস্থা জিআইজেট ও এফআইভিডিবি আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন। উখিয়া টেকনাফ এলাকায় পিস মিডিয়েশন এবং প্রমোশনের জেলা পর্যায়ের স্টেকহোল্ডারা এতে অংশ নেন।
শামসুদ দৌজা বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য পরিবেশন এবং গুজব সৃষ্টি নিয়ে সচেতন থাকতে হবে। এ দ্বন্দ্ব নিরসনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। মিডিয়েশন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি সঠিক তথ্য উপস্থাপন মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
কর্মশালায় উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজারের হোস্ট কমিউনিটি এবং উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও সহায়তা এবং নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনে একটি বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন জার্মান সরকার ও এফআইভিডিবি। রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শান্তি, শৃঙ্খলা রক্ষা ও দ্বন্দ্ব নিরসনের লক্ষ্যে এ মিডিয়েটর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
আরো উল্লেখ করা হয়, এ প্রকল্পের আওতায় দ্বন্দ্ব নিরসন ও সুষ্ঠু সমাধানের পরিবেশ সৃষ্টিতে ৩২০ জন মধ্যস্থতাকারী (মিডিয়েটর) রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেক নারী ও অর্ধেক পুরুষ রয়েছে। এছাড়া হোস্ট কমিউনিটির পক্ষ থেকে ৫০ শতাংশ ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৫০ শতাংশ এ প্রকল্পের আওতায় কাজ করবেন।
কর্মশালায় আরো বক্তব্য দেন সিনিয়র সহকারী জজ ও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার সাজ্জাতুন নেছা লিপি, শরণার্থী ক্যাম্প ইনচার্জ শামীম আল ইমরান, সহকারী ক্যাম্প ইনচার্জ শফিকুল বারী, জিআইজেড'র হেড অব প্রোগ্রাম আলেকজান্ডার বেটজ, মোবাশ্বেরুল ইসলাম সোহেল প্রমুখ।