বরিশালের গৌরনদীতে নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে এক বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদে ভাঙচুর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার (৪ মে) দুপুরের দিকে এ ঘটনায় আহত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সবুজ শিকদার চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় সবুজ শিকদারের ভাতিজা অন্তু শিকদার নাগরিক সনদের আবেদন করতে গিয়ে বারবার ফিরে আসছিলেন। গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে চেয়ারম্যান কার্যালয়ে অবস্থান করছেন এমন খবর পেয়ে সবুজ শিকদার ভাতিজাকে সাথে নিয়ে আবারো ইউপি পরিষদে যান।
সেখানে পৌঁছে চেয়ারম্যানের গাড়িচালক পলাশ হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, চেয়ারম্যান উপস্থিত নেই। যদিও ওই সময় চেয়ারম্যান ভবনে অবস্থান করছিলেন। মিথ্যা তথ্য দেয়ায় সবুজ ও পলাশের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান নিজেই নিচে এসে বাকবিতণ্ডায় জড়ান এবং কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সবুজ শিকদারকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। আত্মরক্ষার্থে সবুজ হাত তুললে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে ছুরির কোপ লেগে গুরুতর আহত হন।
সবুজ শিকদার বলেন, ‘আমি একজন সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী। জনপ্রতিনিধির কাছে নাগরিক সেবা চাইতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে জর্জরিত হতে হবে, তা কল্পনাও করিনি। এটি যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক হামলা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার পরপরই আহত অবস্থায় সবুজ শিকদারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে গিয়ে দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষের জানালার গ্লাস ভেঙে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু ও তার সঙ্গী পলাশ হাওলাদার পালিয়ে যান।
গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ইউনুস মিয়া বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। মামলার তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
এই বিষয়ে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলুর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
এদিকে রোববার দুপুরে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ও উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন এবং কর্মসূচি পালন করেন মাহিলাড়া ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
প্রতিবাদ সমাবেশে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাজাহান শিকদার, সাবেক সভাপতি আব্দুল আউয়াল লোকমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মিলন, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শাহিন শিকদার, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন আকন, জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কায়েস শিকদার প্রমুখ বক্তব্য দেন।