আবু বকর ছিদ্দিক, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা)

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় নাশকতা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) উপজেলার ওয়াশেরপুর গ্রামের মাসুদ মিয়া কেন্দুয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ মোট ৮২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুন দিবাগত রাতে কেন্দুয়া পৌরসভার কমলপুর শাকিনের শহীদ মিনারের সামনে কেন্দুয়া-আঠারবাড়ী সড়কে আসামিরা মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ব্যাপক ত্রাসের সৃষ্টি করেন। এ সময় তারা যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন এবং অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও নাশকতার মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেন। এতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

মামলায় কেন্দুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র আসাদুল হক ভূঁইয়া, সান্দিকোনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম, নওপাড়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সারোয়ার জাহান কাউসার ও সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, কান্দিউড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক কনক ও শহিদুল ইসলাম বাবুল, নেত্রকোনা জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বিপুল, পাইকুড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বদরুল ইসলাম, মোজাফরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির আলম, চিরাং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল কবির খান, মাসকা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আ. ছালাম বাঙালি, রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান ভূঁইয়া, গড়াডোবা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খান, দলপা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহিন মিয়া, গন্ডা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সন্জুর রহমান এবং দিগদারই গ্রামের কামরুল হাসান ভূঁইয়া ও তার স্ত্রী কল্যাণী হাসান, দিগলী গ্রামের শহিদুল হক ফকির বাচ্চু ও কাউরাট গ্রামের তাজুল ইসলামসহ ৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মামলায় আরো ৩০ থেকে ৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তারা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সংগঠনের নেতাকর্মী বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আসামিদের গ্রেফতারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’