জামিয়াতুল ইমাম মুসলিম রহ: কক্সবাজার ক্যাম্পাসে সপ্তাহব্যাপী আরবি ভাষা ও ইসলামি সংস্কৃতি কর্মশালা শুরু হয়েছে। আজ সোমবার (৩০ জুন) সকাল ৮টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এটির সূচনা হয়। এবং কর্মশালাটি চলবে আগামী রোববার পর্যন্ত। আর প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে কর্মশালার কর্যক্রম অব্যাহত থাকবে দুপুর ১টা পর্যন্ত।
ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে ও জামিয়াতুল ইমাম মুসলিম রহ:-এর সার্বিক সহযোগিতায় চলমান এ কর্মশালায় প্রতিষ্ঠানটির তিন শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন।
কর্মশালার উদ্বোধন করেন জামিয়াতুল ইমাম মুসলিম রহ: কক্সবাজারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সালাহুল ইসলাম। তিনি আরবি ভাষা ও ইসলামি সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই আরবি ভাষার দক্ষতা ও ইসলামের সংস্কৃতির মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য অর্জনে শিক্ষার্থীরা শুধু পেশাগত দক্ষতা অর্জন করবে না; বরং সহিহ আকিদা বিষয়ক নসিহতের মাধ্যমে তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সৌন্দর্যবোধকে বিকশিত করতে পারবে।
কর্মশালার প্রধান প্রশিক্ষক ছিলেন প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও গবেষক ড. যায়েদ বিন মুহাম্মদ ইবনে জুহানী। তিনি বলেন, নবীর প্রতি ভালোবাসা একটি হৃদয়ের অনুভূতি এবং এটি ভাষার ঊর্ধ্বে। তবে, আরবি ভাষা জানা থাকলে কোরআন ও হাদিস আরো ভালোভাবে বোঝা যায়, যা নবীর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান লাভে সাহায্য করে। তাই আরবি ভাষা শেখা নিঃসন্দেহে একটি মূল্যবান বিষয়। আরবি ভাষা জানা থাকলে নবীর প্রেমিক হতে পারবেন।
অন্যান্যদের মধ্যে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. বরিক বিন মুহাম্মদ, ড. সাউদ বিন আবদুল আজিজ, ড. মনছুর বিন আবদুল আজিজ। মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও গবেষক ড. যায়েদ বিন মুহাম্মদ নেতৃত্বে ৪ জন শিক্ষক বাংলাদেশে এসেছেন।
কর্মশালাটি দুই গ্রুপে বিভক্ত ছিল। দ্বিতীয় কর্মশালাটি ছিল জামিয়ার অডিটরিয়ামে আরবি ভাষা ও ইসলামি সংস্কৃতি ওপর। এখানে প্রশিক্ষণ দেন ড. হাসান ইবনে নাসির আল-ওয়ানী। তিনি মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও গবেষক। তিনি বলেন, আমাদের যাপিত জীবনের যাবতীয় সমস্যার সুন্দর সমাধান মেলে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসে। কিন্তু এত এত হাদিসের ভিড়ে আমরা বুঝব কী করে, কোনটা বিশুদ্ধ আর কোনটা দুর্বল ও জাল হাদিস? বিশুদ্ধতার বিচারে সিহাহ সিত্তাহ তথা সহিহুল বুখারি, সহিহুল মুসলিম, জামি তিরমিযি, সুনানুন নাসায়ি, সুনানু আবি দাউদ, সুনানু ইবনি মাজাহ—এই ছয়টি প্রসিদ্ধ হাদিসগ্রন্থের অবস্থান সবার ওপরে। আর যেসব হাদিস রয়েছে এই ছয়টি গ্রন্থের প্রত্যেকটিতেই, সেগুলো যে বিশুদ্ধতম হাদিস তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
এই কর্মশালা জামিয়ার কর্মরত ও শিক্ষারত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আরবি ভাষা দক্ষতার ওপর সৃজনশীলতা ও আধ্যাত্মিক চিন্তাধারাকে সমৃদ্ধ করেছে। ইসলামি সংস্কৃতির প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।
জামিয়া কতৃপক্ষ জানিয়েছেন, বিশ্ববিখ্যাত ইসলামি স্কলার-দাঈদের সহিহ ঈমান-আকিদা ভিত্তিক কর্মশালার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা আরবি ভাষা ও সংস্কৃতির গভীরতা উপলব্ধি করতে পারবে এবং ইসলামী জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় দক্ষতা অর্জন করতে পারবে। অত্র জামিয়ার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য আরবি ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কর্মশালা স্থানীয় জনগণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, যা তাদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জ্ঞান বিকাশে সহায়তা করবে।
উল্লেখ্য, জামিয়াতুল ইমাম মুসলিম রহ: কক্সবাজার শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চ শিক্ষার পথ সুগম করার নিমিত্তে বহির্বিশ্বের নানান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদনে সক্ষম হয়েছে। গত বছর ২৪ জুলাই বিশ্বের অন্যতম ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে দ্বিপক্ষীয় সনদের সমতা চুক্তি (মুয়াদালা) সম্পন্ন হয়, যা জামিয়ার ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব সাফল্য।