সাভারের হেমায়েতপুর চামড়া শিল্প নগরীতে সরকার ঘোষিত মজুরি কার্যকর কারার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ট্যানারি শ্রমিকরা।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ট্যানারী ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের অফিসের সামনে এ সমাবেশের আয়োজন করে ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন।
সমাবেশের আগে বিভিন্ন কারখানা থেকে শতশত ট্যানারি নারী ও পুরুষ শ্রমিক খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে অফিসের সামনে জড়ো হন। এরপর সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ট্যানারি শিল্পের শ্রমিকদের জন্য পাঁচটি গ্রেডে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেন। এতে গ্রেট-১ এ ৩৪ হাজার ১৬৮ টাকা, গ্রেট-২ এ ২৮ হাজার ৩৮৮ টাকা, গ্রেট-৩ এ ২৪ হাজার দুই টাকা, গ্রেট-৪ এ ২০ হাজার ৯৯৩ টাকা ও গ্রেড-৫ এ ১৮ হাজার এক টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে মালিক পক্ষ সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করেনি। এ ক্ষোভে আন্দোলনে নামে ট্যানারি শ্রমিকরা।
সমাবেশে ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মালিক-শ্রমিক ও সরকারের ঐক্যমতের ভিত্তিতে ট্যানারি শিল্পের জন্য সর্বনিম্ন বেতন ১৮ হাজার এক টাকা করাসহ মোট পাঁচটি গ্রেড নির্ধারণ করা হয়। যা ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর থেকে সরকার মালিক পক্ষকে চিঠি দিয়ে কার্যকর করার জন্য বললেও আজ পর্যন্ত মালিক পক্ষ তা কার্যকর করেনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের মূল স্লোগান ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সেই বৈষম্যের সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে শ্রমিকরা। আগেও আমরা অধিকার পাইনি। বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে যারা এখন ক্ষমতায় আসছেন তাদের কাছে আমাদের অনুরোধ, আপনাদের করা আইন যারা অমান্য করছে তাদের লাগাম টেনে ধরুন। অন্যথায় শ্রমিকরা সিদ্ধান্ত নিয়ে এলাকায় কাজ বন্ধ করে দিলে ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন ও শ্রমিকদের দায়ী করা যাবে না।’
সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক ও শ্রমিক নেতা কে এম লেয়াকত হোসেনসহ অন্য শ্রমিক নেতা ও বিভিন্ন ট্যানারির শ্রমিক প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
এদিকে সমাবেশে ২১ এপ্রিল (সোমবার) থেকে ২৪ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত ট্যানারি শ্রমিকরা স্বাভাবিক ডিউটির বাইরে অতিরিক্ত কোনো কাজ (ওভারটাইম) করবে না বলে ঘোষণা দেন। এরপরেও দাবি না মেনে নেয়া হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা।