৩১ দফা বাস্তবায়িত হলে দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরতে পারবে না মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বিএনপির একার নয়। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী করবে, সেগুলো ৩১ দফায় বিস্তারিত বলা আছে। সংস্কারের প্রশ্নে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য ৩১ দফার বিকল্প নেই। প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে সব মত ও পথের সমন্বয়ে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে বিএনপি।’
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে সিলেটের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি আয়োজিত ওয়ার্ডের নতুন বাজারে ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যে সংস্কার করে নির্বাচনের কথা বলছে তার সাথে বিএনপির ৩১ দফার অনেক মিল আছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যে চিন্তা তা এক সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশের মানুষের সামনে দিয়েছিলেন। একসময় বেগম খালেদা জিয়া ভিশন টোয়েন্টি থার্টির মাধ্যমে জনগণের সামনেও তা তুলে ধরেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যখন আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে ছিলাম প্রকৃতপক্ষে তখন ৩১ দফার কাজ শুরু করলেও জনগণের দোরগোড়ায় আমরা তা নিয়ে যেতে পারিনি। তাই আজ সময় ও সুযোগ এসেছে জনগণের কাছে বাস্তবভিত্তিক এই ৩১ দফা তুলে ধরার।’
তিনি আরো বলেন, ‘একটা চক্র দেশের ভেতরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর পাঁয়তারা করছে। দেশী ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। বাংলাদেশকে অস্থির করে স্বৈরাচারদের আবার সুযোগ করে দেয়ার অপচেষ্টা চলছে। এসব মোকাবেলার জন্য বিএনপি নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। নির্বাচিত সরকার ছাড়া এসব অস্থিরতা বন্ধ করা প্রায় অসম্ভব। সে কারণে দ্রুততম সময়ে নির্বাচন দিয়ে জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা সরকারের দেশপ্রেমের প্রকাশ হবে।’
এ সময় অনুষ্ঠানে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক মুহিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক শামীমের পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েছ লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম, বিমানবন্দর থানা বিএনপির সদস্য সচিব সারোয়ার হোসেন, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জাহেদ আহমদ, জেলা বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আল মামুন খান, জেলা বারের পিপি অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান, মহানগর কৃষকদলের সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, মহানগর বিএনপির সাবেক মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক সিরাজ ইসলাম, টুলটিকর ইউনিয়ন বিএনপি সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম, সাংগঠনিক সম্পাদক কবির আহমদ নুনু, আব্দুর শুকুর প্রমুখ।