মাত্র ৩৪ দিন বয়সী কন্যাশিশু সাফা জান্নাত। পৃথিবীতে আসার এক মাসের মাথায়ই বাবাকে হারাল সে। দেশে ফিরে মেয়েকে কোলে নেয়ার স্বপ্ন ছিল প্রবাসী শামীম হোসেনের। কিন্তু সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে নিহত হয়ে সেই স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেল।
রোববার (৯ আগস্ট) সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে নিহত হন শামীম হোসেন।
শামীম হোসেন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ৩ নম্বর খাজুরা ইউনিয়নের দীঘিরপাড় এলাকার মো: জাকির হোসেনের ছেলে।
শামীমের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে পাশের হালতি খোলাবাড়িয়া এলাকার মিতুকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর দীর্ঘদিন সন্তান না হওয়ায় বিভিন্ন চিকিৎসক ও কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নেন তারা। দীর্ঘ চার বছর পর সন্তানসম্ভবা হন তার স্ত্রী।
সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে দেশে রেখে আট মাস আগে প্রবাস জীবনে পাড়ি জমান শামীম। সন্তান জন্মের পর বিদেশে থেকেও ভিডিও কলে মেয়েকে দেখতেন তিনি। দেশে ফিরে একমাত্র সন্তানকে কোলে নিয়ে আদর করার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী নাজমা খাতুন মিতু। তিনি বারবার অচেতন হয়ে পড়ছেন।
নাজমা খাতুন মিতু বলেন, রোববার সকালে স্বামীর সাথে তার শেষ কথা হয়েছে। প্রতিদিন শামীম ভিডিও কলে মেয়েকে দেখতেন। এখন তিনি কাকে দেখাবেন, কার সাথে কথা বলবেন এবং কাকে সন্তানের ভালো-মন্দের কথা জানাবেন—এ নিয়ে আহাজারি করেন তিনি। তার ছোট শিশুটি এতিম হয়ে গেল বলেও জানান তিনি।
শামীমের মা শাহীনুর বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে সরকারের কাছে ছেলের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, অনেক আশা নিয়ে তার ছেলে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। কিন্তু এক মাস বয়সী নাতনি বাবার জীবিত মুখটিও দেখতে পেল না। সরকারের কাছে নাতনির ভবিষ্যতের জন্য সহযোগিতার আবেদন জানান তিনি।
শামীমের বাবা জাকির হোসেন বলেন, শামীম তার একমাত্র ছেলে ছিলেন। তার আয়ের ওপরই সংসার চলত। অনেক টাকা ঋণ করে তাকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। এক মাস বয়সী মেয়েকে এতিম ও স্ত্রীকে বিধবা করে ছেলে চলে গেলেন বলেও কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এতিম নাতনির ভবিষ্যতের জন্য সরকারের সহযোগিতা চান তিনি।
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আলে-ইমরান খাঁন বলেন, ঘটনাটি জানার পর জেলা প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে তাদের বাড়িতে যাওয়া হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। লাশগুলো পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার কাজ শুরু করেছে।