রংপুর ব্যুরেো
রংপুর মহানগরীর সিও বাজার এলাকায় একটি এলপিজি গ্যাস স্টেশনে মেরামত করার সময় ব্রয়লারের প্রচন্ড বিস্ফোরণ হয়। এতে একজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সিও বাজার এলপি গ্যাস স্টেশনে এই বিস্ফোরণ হয়।
ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সিও বাজার এলপি গ্যাস স্টেশনে এই বিস্ফোরণ হয়। গ্যাস স্টেশনটি এক সপ্তাহ আগে লিকেজ হওয়ার কারণে বন্ধ ছিল। চালু করার জন্য গ্যাসের কূপের উপরে ব্রয়লারে ওয়েল্ডিং এর কাজ করছিল মালিকপক্ষ। এ সময় কূপে কোনো লিঙ্কেজ আছে কি না সেটি জানার জন্য বাতাসের চাপ দিলে এই বিস্ফোরণ হয়। ব্রয়লারের মধ্যে কোনো গ্যাস ছিল না। বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হওয়ার কারণে বিভিন্ন ইকুইপমেন্ট আশেপাশের অন্তত দেড় কিলোমিটার এলাকার বাড়ি-ঘর পুড়ে যায়। এতে দুই শতাধিক বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শতাধিক দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আশপাশে মহাসড়ক দিয়ে যাওয়া অন্তত ২৫টি বাদসহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ফায়ার সার্ভিস পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আহতদেরকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্যাস কুপ মেরামতের ইঞ্জিনিয়ার এর সহযোগী সেলিম রেজা মারা যান।
স্টেশনটির পাশেই পুরো বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুনের। তিনি বলেন, ‘আমি বাসা থেকে বের হবো এমন সময় ভয়াবহ বিকট শব্দ হয়। সাথে সাথেই আমার বাড়ি ঘরের সমস্ত ৩৭ ফ্যানসহ অন্যন্যগুলো ভেঙে পড়ে। আমি কোনো মতো দৌড়ে প্রাণ বাঁচায়। বের হয়ে শুনি এলপিজি গ্যাস স্টেশনের ব্রয়লার বিস্ফোরণ হয়েছে। যদি সেখানে গ্যাস থাকতো তাহলে সেখানে আশপাশের শত শত মানুষের জীবন চলে যেত।’
পাশেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ডাক্তার মতিউর রহমানের বাড়িও। তার স্ত্রী পারুল বেগম জানান, ‘১০ দিন আগেও টাংকিতে পানি মারার কারণে কূপে লিঙ্কেজ হয়ে অন্তত ৪০০ লিটার গ্যাস বাষ্পায়িত হয়েছিল ওই স্টেশনটিতে। মেরামতের পর আবারো চালু করার চেষ্টা করছিল তারা। এত বড় দুর্ঘটনার পরেও তারা সাবধানতা অবলম্বন না করেই কূপের মেরামত করার কারণেই বিস্ফোরণ হয়। এতে আমার বাড়ি ঘরের যা যাবতীয় জিনিস আছে সব নষ্ট হয়ে যায়।’
ফায়ার সার্ভিসের রংপুর ফায়ার স্টেশন এর উপ-পরিচালক মাসুদ আলম জানান, ‘কূপের লিঙ্কেজ চেকআপ করতে গিয়েই মূলত এই ঘটনাটি ঘটেছে। এ কারণে আশপাশের যত বাড়ি-ঘর আছে দোকানপাট আছে সব কিছু না কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেটি নিরূপণের কাজ চলছে।’
তিনি জানান, ‘এই ঘটনায় স্টেশন মালিকের কোনো গাফিলতি ছিল কি না এটিও আমরা খতিয়ে দেখছি।’