রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘর থেকে টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার শিকার গৃহবধূর নাম সালমা বেগম (২৫)।
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ইউনিয়নের হাউলি জয়পুর গ্রামে স্বামীর বাড়ির খাটের ওপর গলায় ওড়না তার পেঁচানো লাশ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
সালমা বেগম হাউলি জয়পুর গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী আজাদ মল্লিকের স্ত্রী। তাদের সাদিক নামে সাত বছরের এক ছেলে ও সিনহা নামে পাঁচ বছরের এক শিশুকন্যা রয়েছে।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মাহমুদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সালমা বেগমের গলায় ওড়না পেঁচানো লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার কারণ উদঘাটন ও এর সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।
সালমার শাশুড়ি লতা বেগম বলেন, আমার ছেলে ঈদের আগে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টাকার উপরে পাঠিয়েছে। দুবৃত্তরা সালমাকে হত্যা করে ঘর থেকে টাকা ও সালমার নাকফুল নিয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, আমার ছেলে আজাদ চার বছর ঢাকার নারায়ণগঞ্জে দর্জির কাজ করেছে। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সে নারায়ণগঞ্জে থাকত। দুই বছর আগে সে পরিবার নিয়ে বাড়িতে চলে আসে। দেড় বছর আগে সে সৌদি আরব চলে যায়। সৌদি আরব যাওয়ার পর থেকে তার স্ত্রী সালমা দুই শিশু সন্তান নিয়ে বাড়িতেই থাকত।
লতা বেগম বলেন, ‘ঈদের দিন সোমবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে সালমা দুই শিশু সন্তান নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমাতে যায়। অন্য এক ঘরে আমি ও আমার ছোট ছেলে রাহাত ঘুমাই। আরেক ঘরে আমার বড় ছেলে আমজাদ ও তার স্ত্রী মিম ঘুমায়। ভোর ৬টার দিকে আমি ঘুম থেকে উঠে সালমার ঘরের সামনে গিয়ে নাতি সাদিককে ডাক দেই। এসময় সাদিক ঘরের ভেতর থেকে কান্না করে বাইরে থেকে দরজা খুলতে বলে। তখন আমি দেখি ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। আমি দরজা খুলে ঘরের ভেতর ঢুকে দেখি সালমা খাটের ওপর চিৎ করে শোয়া অবস্থায় রয়েছে। তার শরীর কাঁথা দিয়ে ঢাকা এবং গলায় ওড়না দিয়ে টাইট করে পেঁচানো। তার দুইপাশে দুই সন্তান বসে আছে।
সালমার সাত বছর বয়সী ছেলে সাদিক বলে, ‘রাতে আমাদের ঘরে হিমায়েত এসেছিল। তার সাথে মুখোশ পড়া আরো দু’জন ছিল। তারা আমার আম্মুকে মেরেছে।’
হেমায়েত কে জানতে চাইলে সাদিক বলে, ‘আমরা যখন ঢাকায় থাকতাম, তখন হিমায়েত আমাদের আঙ্কেল হতো।’
এদিকে সালমার শ্বশুর বাড়ির কিংবা বাবার বাড়ির কোনো সদস্য হিমায়েত নামে কাউকে চিনেন না বলে জানিয়েছেন। আজাদ ও সালমা ঢাকায় থাকাকালে হিমায়েত নামে কারো সাথে পরিচয় থাকতে পারে বলে ধারণা তাদের।