মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ভূমি অফিসের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ভূমিমেলার গণশুনানিতে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার শত শত মানুষ তাদের ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে হাজির হয়েছেন। তাৎক্ষণিক ভূমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানও হয়েছে শত শত মানুষের।
মঙ্গলবার (২৭ মে) মেলার শেষ দিনেও সেবাগ্রহীতাদের ভিড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। কারো নামজারি সমস্যা, কারো খতিয়ানে নাম ও দাগে ভুল, কারো দলিল থাকার পরও জমি চলে গেলে সরকারের নামে, আবার কারো দলিল থেকে নামজারি পর্চায় জমি কম দেয়া হয়েছে। এভাবে বহু সমস্যা নিয়ে হাজির হন লোকজন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মহি উদ্দিন, সহকারী কমিশনার(ভূমি) শাহ জহুরুল হোসেন ও সাব রেজিস্ট্রার তৌসিফ আনোয়ার খান গতকাল দুপুরে মেলায় আগত সেবাগ্রহীতাদের সমস্যা শুনে তাৎক্ষণিক সমাধান করে দেন।
মেলায় আগত সেবাগ্রহীতা নার্গিস আক্তার জানান, তার নামজারি পর্চায় নামে ভুল ছিল। আজকের মেলায় স্পটে আবেদন করে সমাধান হয়েছে।
বৃদ্ধ শফর আলী এসেছেন তার মালিকানার জমি আরেক ব্যক্তি জবর দখল করে রেখেছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাগজপত্র পর্যালোচনা করে বললেন, সরেজমিনে গিয়ে জায়গা উদ্ধার পূর্বক দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবেন।
পুষাইনগরের মহব্বত খান মেলায় এসে জানিয়েছেন, তার বৈধ দলিলপত্র থাকার পরও তার জমি সরকারের নামে এসেছেন। তিনিও মেলায় তাৎক্ষণিক আবেদন করে প্রতিকারের জন্য জমা করেছেন। এছাড়াও এভাবে বৃদ্ধ নারী পুরুষ, যুবক-যুবতী শত শত মানুষ বিভিন্ন ভূমির সেবা নিতে এসে মেলায় তাৎক্ষণিক সুবিধা পেয়ে খুশি হয়েছেন বলে প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এব্যাপারে সহকারী কমিশনার(ভুমি) শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, ‘ভূমি সেবা মানুষের দৌড়গোড়ায় পৌঁছানোর জন্য তিন দিনব্যাপী ওই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। জনসাধারনের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ ছিল লক্ষ্যনীয়। আমরা সকলের কথা শুনেছি কিছু সমাধানও করেছি। সব আবেদন গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করা হবে।’
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মহি উদ্দিন জানান, এ ধরনের ভূমিমেলা উপজেলার ১৩ ইউনিয়নে আয়োজন করার জন্য এসিল্যান্ডকে বলেছি। মানুষ যাতে সহজে বিনা ভোগান্তিতে ভূমি সমস্যার সমাধান পেতে পারে সেজন্য ভূমিমেলা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
উল্লেখ্য, কুলাউড়ায় এই প্রথমবারের মতো গত ২৫ মে ভূমিমেলা শুরু হয়ে মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকেল ৫টা পর্যন্ত মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।