সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের বৌলাই নদীতে নৌকা ডুবে চারজন নিহত ও ১০ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এক জনকে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মদনাকান্দি গ্রামের সুমন সরকারের ট্রলারে প্রতি শনিবার আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের লোকজন মধ্যনগরে হাটবারে নিয়ে যাওয়া আসা করেন।
শনিবার (২৯ মার্চ) রাত আনুমানিক ৯টায় ওই যাত্রীবাহী ট্রলার নৌকাটি মধ্যনগর থেকে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল নিয়ে জামালগঞ্জের বেহেলি ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে আসার পথে হেরা কান্দি গ্রামের নদীর বাঁক ঘুরতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তারা আরো জানান, মধ্যনগর উপজেলার সাপ্তাহিক হাট বাজারে জামালগঞ্জের বেহেলি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের লোকজন যাওয়া আসা করে। মধ্যনগর থেকে বাজার করে ফেরার পথে হেরাকান্দি গ্রামের বৌলাই নদীর মোড়ে বাঁক ঘুরার সময় যাত্রীবাহী নৌকাটি ডুবে যায়। ট্রলারে প্রায় ৫০-৬০ জনের মতো যাত্রী ছিল। এতে লক্ষাধিক টাকার মালামালসহ চারজন নিহত ও ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
নিহতরা হলেন, জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলি ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামের তাপস চক্রবর্তীর স্ত্রী বিউটি চক্রবতী (৫০), নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার হাতনি গ্রামের কল্পনা সরকার (৫০), কলমাকান্দা থানার ভাটিপাড়া গ্রামের সুজিত সরকারের মেয়ে গঙ্গা সরকার (৬), কল্পনার দেবরের মেয়ে অজ্ঞাত। এছাড়াও হাতনি গ্রামের নিরদ সরকারের শিশু ছেলে নিরব সরকার (১০) মুমূর্ষু অবস্থায় জামালগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্ররণ করেন।
বেহেলী ইউপি সদস্য দেবাশীষ সরকার জানান, মধ্যনগর থেকে যাত্রী বোঝাই নৌকাটি বেহেলি আসার পথে হেরাকান্দি গ্রামের পাশে বাঁক ঘুরার সময় নৌকা ডুবার খবর পাই। এতে চারজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অবহিত করা হলে থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনা স্থলে আসছেন তিনি এখন রাস্তায় আছেন।
জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত স্থানে যাচ্ছি এখন রাস্তায় আছি। লোকমুখে শুনেছি চারজন নিহত হয়েছেন। আমি ঘটনা স্থলে গিয়ে জানাবো।