জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সাবেক খতিব ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থানায় অবস্থিত গওহারডাঙ্গা মাদরাসার মুহতামিম মুফতি রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অপরাধে সাজা বহাল রেখেছেন পারিবারিক আপিল আদালত।
বুধবার গোপালগঞ্জ জেলার পারিবারিক আপিল আদালতে বিচারক শাহনাজ নাসরীন খান সাবেক খতিব রুহুল আমিনের আপিল খারিজ করে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়- ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের ৯ তারিখ মুফতি রুহুল আমিনের ভাই বড় পীর নামে খ্যাত মৃত হাফেজ মাওলানা ওমরের স্ত্রী ফাতেমা বেগম টুঙ্গিপাড়া থানা আমলী আদালত, গোপালগঞ্জ-এ মুফতি রুহুল আমিনকে আসামি করে একটি নালিশী আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে বাদি ২০২৩ সালের ভূমি অপরাধ ও প্রতিকার দমন আইনের ৪ (১) (ক) ধারায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
মামলায় বাদি উল্লেখ করেন, টুংগীপাড়া থানার ২৩নং শ্রীরামকান্দি মৌজায় ২৮৬২নং খতিয়ানের বিআরএস ৪৯৭৯নং দাগে আমার স্বামীর জমি ১৭ শতাংশ এবং আসামির জমিও ১৭ শতাংশ। কিন্তু আসামি রুহুল আমিন সম্পূর্ণ জমিটি জোরপূর্বক নিজ দখলে নিয়ে ইট, বালু, সিমেন্টের দেয়াল তৈরি করেছে। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে এবং আমাকে জীবন নাশের হুমকি প্রদান করেছে।
এই মামলায় ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মাদ আলী তালহা আসামি রুহুল আমিনের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে মর্মে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাস কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন।
রায়ের বিরুদ্ধে রুহুল আমিন পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল করেন। মামলার বাদিও আসামির সাজা বৃদ্ধির আবেদন করে আপিল করেন। আপিল শুনানি শেষে বুধবার পারিবারিক আপিল আদালত উভয়ের আপিল খারিজ করে নিম্ন আদালতের প্রদত্ত সাজা বহাল রাখেন এবং আসামিকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের আদেশ প্রদান করেন।
মামলার বিষয়ে বাদির ছোট জামাতা মুফতি ইসমাইলের কাছে জানতে চাইলে নয়া দিগন্তকে তিনি বলেন, মুফতি রুহুল আমিন ধারাবাহিকভাবে ছদর সাহেব হুজুরের (মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ:) বড় ছেলে ডা: মাওলানা ওমর আহমদ সাহেবের পরিবারের প্রতি জুলুম করে যাচ্ছেন। এই মামলা ছাড়াও আরো দুটি উচ্ছেদ মামলা তার বিরুদ্ধে চলমান রয়েছে। তার অপরাধের ফিরিস্তি অনেক লম্বা। সেই হিসেবে সাজা খুবই সামান্য। আমরা আশা করেছিলাম তার সাজা আরো বেশি হবে। তবে আদালত যা ভালো মনে করেছেন, আমরা এখন তা বাস্তবায়ন দেখতে চাই। এই জুলুমের প্রতিবাদ করার কারণে মুফতি রুহুল আমিন আমার প্রতি অনেক অবিচার করেছেন।
মন্তব্য জানতে চাইলে মুফতি রুহুল আমিনের ভাগ্নে মোর্তাজা হাসান নয়া দিগন্তকে বলেন, ওই জমিতে আমাদেরও অংশ রয়েছে। কিন্তু মামা জোর করে পুরোটাই নিজ দখলে নিয়েছেন।
মুকসুদপুর থানার মাওলানা জাহিদ আল মাহমুদ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছিলাম রুহুল আমিন সাহেব তার বড় ভাই পীর সাহেব হুজুরের এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের হক নষ্ট করছেন। আজ আদালতের রায়ে তা প্রমাণিত হলো। আমরা জানি তিনি ও তার ছেলে ওসামা আমিন মিলে শুধু পারিবারিক খেয়ানত নয়; বরং গওহারডাঙ্গা মাদরাসা এবং গওহারডাঙ্গা শিক্ষা বোর্ডে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে যাচ্ছেন এবং ইচ্ছেমতো খেয়ানত করে যাচ্ছেন। এর একটা বিহিত হওয়া প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, মুফতি রুহুল আমিন ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ আখ্যা দিয়ে আলেম-ওলামাদের মাঝে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের টিকিটে নড়াইল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনা তাকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব পদে নিযুক্ত করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট যখন পালিয়ে যান, এই খতিবও তখন আত্মগোপনে চলে যান। তবে কিছুদিন পরে বায়তুল মোকাররমে উপস্থিত হয়ে তিনি নৈরাজ্য সৃষ্টি করেন- এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাও চলমান আছে।