বগুড়া সদর উপজেলা যুবদল সভাপতি অতুল চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে মুখোশ পরা সন্ত্রাসীরা।
বুধবার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার সাবগ্রাম হাটে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান বাসির।
তিনি জানিয়েছেন, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই নেতাকে ঢাকায় নেয়া হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার মাথায় সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানিয়েছে, বুধবার রাতে নবাববাড়ি সড়কের জেলা ও সদর উপজেলা যুবদলের কার্যালয় থেকে মোটরসাইকেলে নিজ বাড়ি সাবগ্রামে ফিরছিলেন অতুল। পথে সাবগ্রাম হাটে একটি দোকান থেকে ওষুধ কিনছিলেন তিনি। এ সময় চারটি মোটরসাইকেলে অন্তত সাত থেকে আটজন মুখোশধারী অতুলের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা অতুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলে যায়। বাধা দিতে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে কয়েকটি গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা আহত অতুলকে উদ্ধার করে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ হামলার প্রতিবাদে এবং দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে যুবদল।
এ বিষয়ে বগুড়া জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান বলেন, অতুলকে হত্যার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়েছে। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার না করলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ ঘটনার পেছনে পারিবারিক বিরোধ ও সাবগ্রাম এলাকায় আধিপত্য বিস্তার হতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান বাসির বলেন, দুর্বৃত্তরা সবাই মুখোশ পরা ছিল। তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনার কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
এদিকে এ ঘটনার নিন্দা ও দোষীদের বিচার দাবি করে বিবৃতি দিয়েছেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, জেলা যুবদল সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ জহুরুল আলম, শহর যুবদল সভাপতি আহসান হাবিব মমি প্রমুখ।