শীতকালীন ছুটি নিয়ে অনিশ্চয়তার পথে যাওয়া রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ও হল সংসদ-ব্রাকসু নির্বাচনের নতুন সিদ্ধান্তকে ছাত্রদল প্রত্যাখ্যান করলেও ছাত্র শিবির ও সমন্বয়করা সাধুবাদ জানিয়েছে। পরিবর্তিত সময় অনুযায়ী আগামী ২৪ ডিসেম্বর ব্রাকুস নির্বাচন হবে। একই সাথে ১৭ জানুয়ারি থেকে শীতকালীন ছুটি এগিয়ে এনে ২৫ ডিসেম্বর থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে। ছাত্রদল এই সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে ভিসিকে ভূয়া বলে স্লোগান দিয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রশিবির ও সমন্বয়করা সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে।

গত ১৮ নভেম্বর রাতে ব্রাকসু নির্বাচনের জন্য ২৯ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল দেয় নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনার ড. মোহসীনা আহসান এই তফসিল ঘোষণা করেন। এসময় তাকে তফসিল ঘোষণার জন্য বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রফেসর ড. মো: শাহজামান।

ঘোষণার পরপরই ওই রাতেই তারিখকে প্রতারণা উল্লেখ করে তফসিল প্রত্যাখ্যান করে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নামেন ছাত্র সমন্বয়কসহ শিক্ষার্থীরা। ১৯ নভেম্বরও দিনভর আন্দোলন করেন তারা। পরে জরুরি অ্যাকাডেমিক কমিটির বৈঠকে শীতকালীন ছুটি কালেন্ডার অনুযায়ী ১৭ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের পরিবর্তে একমাস পিছিয়ে ১৭ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ব্রাকসুর তারিখ অপরিবর্তিত রাখা হয়। ওই ঘোষণার পর আবারো আন্দোলন অব্যাহত থাকে। আন্দেলনের মুখে ২০ নভেম্বর ব্রাকসুর তারিখ ৫ দিন এগিয়ে এনে ২৪ ডিসেম্বর নির্ধারণ করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়া নির্বাচন কমিশন। এই তারিখও প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকাল থেকে শিক্ষার্থীদের একাংশ শীতকালীন ছুটি ১৭ ডিসেম্বর পুনর্বহাল করার দাবিতে ক্যাম্পাসে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও প্রশাসনিক ভবনের উত্তরগেট ঘেরাও ও ভিসিকে স্মারকলিপি দেয় তারা। তুলে ধরেণ কেন জানুয়ারিতে শীতকালীন ছুটি মানেন না তারা। এই অংশের নেতৃত্ব দেন ক্যাম্পাস ছাত্রদল নেতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ইমরান।

তিনি ঘেরাও কর্মসূচি কালে ঘোষণা করেন, ‘ ডিসেম্বরে নির্বাচন আমরা চাই না। আমরা চাই নির্বাচন শীতকালীন ছুটির পরে হোক। যেমন সিলিট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিয়েছে ২০ জানুয়ারি। ওইরকম সময়ে নির্বাচন আমাদেরও হতে পারে। গুটিকয়েক মানুষের কথায় যদি তড়িঘড়ি কর নির্বাচন করে তাহলে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এজন্য দায়ি থাকবে। আমাদের শীতকালীন ছুটি ১৭ ডিসেম্বর থেকেই লাগেবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি ছুটি না দেয় তাহলে আমরাই প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয় দিয়ে ছুটি ঘোষণা করে দিবা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে মনে রাখতে হবে প্রশাসনের জন্য শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’

অন্যদিকে শীতকালীন ছুটির ক্যালেন্ডার (১৭ ডিসেম্বর থেকে) ঠিক রেখে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ব্রাকসু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেটে সংবাদ সম্মেলন করেছে শিক্ষার্থীদের আরেকাংশ। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য পাঠ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও শিবির নেতা আহমেদুল আলবীর।

সংবাদ সম্মেলনে আহমেদুল আলবীর ১৭ দফা উল্লেখ করে বলেন, ‘ব্রাকসু নির্বাচনসহ শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দাবি এবং সংস্কারের প্রতিটি বিষয়ে প্রশাসন উদাসিনতা, গড়িমসি ও প্রতিশ্রুতি ধারাবাহিকভাবে ভংগ করেছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সুশাসন মারাত্বকভাবে ব্যহত হয়েছে। শহীদ আবু সাঈদের রক্তেভেজা ক্যাম্পাসে আরো কখনই পুরোনো কালচার ফিরতে দেয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের আবেগ অনুভূতিকে নিয়ে আর খেলতে দেয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের প্লাটফর্ম কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। যেহেতু জাতীয় নির্বাচনের তফশিল হবে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। সেকারণে আমরা চেয়েছিলাম তফসিল ঘোষণার আগেই নির্বাচন হোক। যদি সেটা না হয় তাহলে দ্বিতীয় সপ্তাহে দিতে হবে নির্বাচন। তাহলে শিক্ষার্থীরা ভোটে অংশ নিয়ে শীতকালীন ছুটিতে যাবেন। যদি এটা করা না হয়। তাহলে শিক্ষার্থীরা আবারো মাঠে নামতে বাধ্য হবে।’

এই অবস্থায় বুধবার ৩টার দিকে শুরু হয় জরুরি সিন্ডিকেট বৈঠক। সিন্ডিকেট বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন ভিসি ড. এম শওকাত আলী। সন্ধা সাড়ে ৭টার দিকে এ বৈঠক শেষে ভিসি ঘোষণা করেন, সব বিষয় চুলচেরা বিশ্লেষন করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ২৪ ডিসেম্বর ব্রাকসু নির্বাচন হবে। আবারো শীতকালীন ছুটি ১৭ জানুয়ারি থেকে এগিয়ে এনে ২৫ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটি শুরু হবে। এই ঘোষণার পর সেখানে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। ছাত্রদল এ সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে ভিসিকে ভুয়া ভুয়া বলে স্লোগান দেয়। অন্যদিকে ছাত্রশিবির ও সমন্বয়করা এই ঘোষণাকে সাধুবাদ জানিয়ে ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল করে।

এছাড়াও সিন্ডিকেট সভা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে তাকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়।