জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ফ্যাসিস্ট গণহত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। পুরাতন নীতি পরিবর্তন করে নতুন সংবিধানের মাধ্যমে আমাদের সামনের দিকে এগুতো হবে। আমরা কোনো দলের বিরুদ্ধে বলি না। আমরা কথা বলি পুরাতন বন্দোবস্তের বিপক্ষে। পুরাতন চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসী পদ্ধতির বিপক্ষে। আর এই পুরাতন পদ্ধতির যদি পরিবর্তন না হয়, তা হলে আমাদের আবারও রাজপথে নামতে হবে।

শনিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় বাগেরহাট রেল রোডে পদযাত্রা শেষে সমাবেশে বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এর আগে বাগেরহাটের ফয়লাহাটে এনসিপি আয়োজিত সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন বলেন, ‘চব্বিশের আগস্টে আপনাদের আন্দোলনের কারণে খুনী হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের সিস্টেম এখনো বাংলাদেশে রয়ে গেছে। আপনারা দেখেছেন পাথর মেরে কিভাবে ঢাকায় একজনকে হত্যা করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই রামপালে এখন চিংড়ি ঘের দখলের মহোৎসব চলছে। এতদিন আত্মগোপনে থাকা লোকেরা এখন চিংড়ি ঘের দখল করছে। দেশে চাঁদাবাজী, ঘের দখল, দুর্নীতিবাজ লোকদেরকে আমরা দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে সক্ষম হব। ইনশাআল্লাহ।

‘রামপালে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে কৃষি জমিকে হুমকির মধ্যে ফেলেছে। মোংলা বন্দর নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। বাংলাদেশের কোনো স্থাপনা নিয়ে বিদেশী কোনো ষড়যন্ত্র আমরা মেনে নিব না।

ফয়লাহাটে আল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তৃতা করেন এনসিপির সারজিস আলম, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, মোল্লা রহমত উল্লাহ, মোর্শেদ আলম, সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ।

সমাবেশে চব্বিশের আন্দোলনের অন্যতম যোদ্ধা সারজিস আলম বলেন, ‘চাঁদাবাজদের উৎপাত এখনো কমেনি। পাথর দিয়ে মানুষ হত্যা আইয়েমি জাহেলিয়াতকে হার মানিয়ে দিয়েছে। আমাদের লড়াই এখনো শেষ হয়নি। চব্বিশের আগস্টের আগে যেমন চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য ছিল, ঠিক তেমনি শুরু হয়েছে। চাঁদাবাজদের উৎখাত করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘চব্বিশেরর আগস্টে যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমরা রাজপথে নেমেছিলাম, সেই আকাঙ্ক্ষা এখনো পূরণ হয়নি। তাই রাজপথ এখনো ছেড়ে দেয়ার সময় হয়নি। একটি দল যেভাবে দেশের প্রতিটি স্থানে চাঁদাবাজী, দুর্নীতি, খুন শুরু করেছে। তাদেরকে সতর্ক করতে চাই— আমরা খুন, গুম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত নতুন বাংলাদেশ দেখতে চাই। দেশকে খুন, গুম, দুর্নীতি, দখল ও চাঁদাবাজমুক্ত করতে প্রয়োজন হলে ওই দলের বিরুদ্ধেও আন্দোলন শুরু করা হবে।’

এনসিপির জুলাই পদযাত্রা সন্ধ্যার পর বাগেরহাটের দিকে রওয়ানা হয়। বাগেরহাট রেল রোডে এনসিপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সাথে এখানে বক্তৃতা করেন, এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম ও ডা: তাসনিম জারাসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

বাগেরহাট রেল রোডে বক্তৃতায় এনসিসির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘আমরা ৫ আগস্টের পর একটি দলকে সুযোগ দিয়েছিলাম ভালো হওয়ার জন্য। তারা দেখলাম আওয়ামী দোসরদের মতো একই পথে হাঁটছে। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

রেল রোডে পদযাত্রা শেষ করে নাগরিক পার্টির পদযাত্রা পিরোজপুরের দিকে রওয়ানা হয়। সেখানে রাত্রিযাপন করবেন নেতৃবৃন্দ।