সংস্কার ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও রংপুর-২ আসনের এমপি পদপ্রার্থী এটিএম আজহারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণহত্যাকারীদের বিচার ও দৃশ্যমান সংস্কারের আগে কোনো নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করলে জনগণ তা মেনে নেবে না। সেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতাও পাবে না। অবিলম্বে সংবিধান সংশোধন করে তার আলোকে ভোট করতে হবে। বাহাত্তরের সংবিধান জারি রাখার জন্য আবু সাঈদ, মুগ্ধরা জীবন দেননি।’

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের পলিপাড়া ও পাকার মাথায় উপজেলা জামায়াত আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এটিএম আজহার বলেন, ‘জামায়াত সবাইকে আপন করে নিতে চায়। এই দলের নেতাকর্মীরা সবার আপনজন। কিন্তু মানুষকে ভুল বুঝিয়ে জামায়াত থেকে দূরে রাখার অপচেষ্টায় লিপ্ত হচ্ছে একটি মহল। তার পরেও এই দলের নেতাকর্মীরা মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকে।’

আওয়ামী লীগ সরকার ষড়যন্ত্র করে আল্লামা সাঈদীকে মেরে ফেলেছে দাবি করে এই জামায়াত নেতা বলেন, ‘জোর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে বন্দুকের নলের সামনে পরিবারকে জিম্মি করে সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী নেয়া হয়েছিল। এখন সবাই দেখছে সেই সাক্ষীরা প্রকাশ্যে নির্ভয়ে এসে সত্য কথাগুলো বলে দিচ্ছে।’

ভোট সম্পর্কে এটিএম আজহার বলেন, ‘অন্য দলের নেতারা বিভিন্ন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, নানা ওয়াদা দিয়ে ভোট নেয়। কিন্তু ভোট পাওয়ার পর সেই নেতারা আর এলাকায় না এসে নিজেদের উন্নয়ন করে। কারণ তারা মানব রচিত সংবিধানের আলোকে পরিচালিত সংসদের শাসক। মানব উন্নয়ন করতে হলে অবশ্যই আল কোরআনের আইন প্রয়োগ করতে হবে, সৎ লোকদের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের একটাই স্লোগান- আল্লাহর আইন চাই। সেটা প্রতিষ্ঠা করতে হলে সৎ লোককে ভোট দিতে হবে। সৎ লোকের মাধ্যমে প্রচলিত আইন পরিবর্তন করে জামায়াতের ছায়াতলে আসতে হবে। জামায়াতের ছায়ায় এলে অন্তত নামাজ পড়বেন, মিথ্যা বলবেন না, রোজা রাখবেন।’

পথসভায় মধুপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আবদুল কুদ্দুস মণ্ডলের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের আমির কামরুজ্জামান কবির, নায়েবে আমির শাহ রুস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিজানুর রহমান, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোজাহিদুল ইসলাম প্রমুখ। সূত্র : ইউএনবি