যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) নিয়োগ দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভিসি ড. আব্দুস সাত্তারসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পিপি সিরাজুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৭ মে) যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ মামলা করেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরের উপ-সহকারী পরিচালক জালাল উদ্দিন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- যবিপ্রবির সহকারী পরিচালক (হিসাব) শরিফুল ইসলাম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) জি এম আনিছুর রহমান, যবিপ্রবির অধ্যাপক (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ) ড. বিপ্লব কুমার বিশ্বাস, যবিপ্রবির সাবেক কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর শেখ আবুল হোসেন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. আজিজুল ইসলাম। তাদের মধ্যে তৎকালীন রিজেন্ট বোর্ডের সভাপতি ছিলেন আব্দুস সাত্তার।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালের জুলাইয়ে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস পদে মঞ্জুরি না থাকলেও শরিফুলকে এ পদে যোগদান করানো হয়। এ সময় কোনো নিয়মনীতি মানা হয়নি। এছাড়া অভ্যন্তরীণ প্রার্থীর সুবিধা নিয়ে ২০২০ সালে যবিপ্রবির সহকারী পরিচালক (হিসাব) হিসেবে শরিফুল ইসলামকে নিয়োগ দেয়া হয়। বর্তমানে তিনি ওই পদে কর্মরত রয়েছেন।

আরো উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি দুদকের নজরে আসলে অনুসন্ধান শুরু হয়। পরে ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত শরিফুল সরকারি তহবিল থেকে ৫২ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৫ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে তথ্য উঠে আসে। পরে বিষয়টি নিয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে মামলার অনুমতির আবেদন জানায় যশোর কার্যালয়। একপর্যায়ে অনুমতি পেয়ে মামলা করা হয় তাদের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে দুদকের পিপি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতারণা ও আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রধান কার্যালয়ের অনুমতি পেয়ে মামলাটি করা হয়েছে। মূলত, শরিফুলের নিয়োগ প্রক্রিয়া অবৈধ ছিল। এছাড়া ধাপে ধাপে তার পদোন্নতিতেও সমস্যা ছিল।’