টেকনাফে আটকে রাখা ১৪ জনকে উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফে মানব পাচারকারীদের আটক থেকে অপহৃত ১৪ জনকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে এ সময় পাচারকারীর কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

রোববার (১১ মে) সকালে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

এর আগে শনিবার মধ্যরাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের উত্তর লম্বরী এলাকার সাইফুল ইসলামের বাড়ি থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘টেকনাফ ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মানবপাচার ও অপহরণের মতো অপরাধ সংঘটিত হয়ে আসছে। এসব অপরাধ দমনে আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় অপহরণ করে আটকে করে রাখা ১৪ জনকে নিরাপদভাবে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে বিজিবি। এদিকে তাদের যে ঘরে রাখা হয়, সেখানে তালাবদ্ধ ছিল। পরে তালা ভেঙে তাদের বের করা হয়। মূলত এদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অপহৃত অনেকেই ১ লাখ টাকা করে মুক্তিপণও দিয়েছে।

আশিকুর রহমান আরো জানান, কারা এ অপহরণে জড়িত, কী উদ্দেশে তাদের অপহরণ করা হয়েছে- তা জানতে আমরা ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলছি। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উদ্ধার হওয়া কক্সবাজারের বাসিন্দা মো: কাসেম ও মহিন উদ্দিন জানান, তারা দু’জন উখিয়া উপজেলার ইনানীতে বেড়াতে গিয়েছিল। সেখান থেকে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকের প্রলোভনে টেকনাফে গেলে আমাদের অপহরণ করে একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আরো কয়েকজনকে আটকে রাখা ছিল। আমাদের মারধর করে পরিবারের কাছে ভিডিও পাঠিয়ে এক লাখ টাকা করে আদায় করা হয়। এরপরেও ১৮ দিন ধরে আটকে রাখা হয়। সাগরপথে পাচারের জন্য দালালদের কাছে বিক্রি করে দেয়া তাদের উদ্দেশ্য ছিল। অবশেষে বিজিবি এসে উদ্ধার করে।