বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) কেন্দ্রে কৃষিগুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার কক্ষ খুঁজতে পাশে থাকবে ‘এক্সাম হল ফাইন্ডার’। আগামী ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কৃষিগুচ্ছের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। নয়টি কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে এবারের ভর্তি পরীক্ষা। তিন হাজার ৮৬৩ আসনের বিপরীতে এবছর লড়াই করবেন ৯৪ হাজার ৩৬ জন শিক্ষার্থী।
ভর্তিযুদ্ধের আগে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিড়ম্বনার কথা মাথায় রেখে গত বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) কেন্দ্রের আওতায় থাকা পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলের অবস্থান ও সেখানে যাওয়ার সহজ পথ দেখাবে ‘এক্সাম হল ফাইন্ডার’ ওয়েব মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন।
‘এক্সাম হল ফাইন্ডার’ নামের ওই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে মাত্র তিনটি ক্লিকেই পরীক্ষার্থীরা তাদের পরীক্ষার হলের লোকেশন জানতে পারবেন। অ্যাপে রোল নম্বর ও কক্ষ নম্বর ইনপুট দিলেই জিপিএস এবং গুগল ম্যাপের সাহায্যে অ্যাপটি পরীক্ষার হলের দিক-নির্দেশনা দেবে। ওয়েব অ্যাপটি ব্যবহার করতে https://bie.bau.edu.bd/ExamHall/ লিঙ্কটি ব্যবহার করতে হবে।
বুধবার (৯ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অ্যাপটির হালনাগাদ সংস্করণের উদ্বোধন করা হয়।
অ্যাপটি নিয়ে কাজ করেছেন বায়োইনফরমেটিকস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক হাওলাদার, তৃতীয় বর্ষের মুহাম্মদ ইশমামুল হক ও দ্বিতীয় বর্ষের মো: আসিফুজ্জামান। আইসিটি সেল ও কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের সার্বিক সহযোগিতায় এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিকস বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই অ্যাপটি হালনাগাদ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: জয়নাল আবেদীন, কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: আবদুল আওয়াল, একই বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো: রোস্তম আলী এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিকস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মেছবাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাপ উদ্ভাবক দলের সদস্য অনিক হাওলাদার বলেন, ‘আমরা আগেও এই অ্যাপটি তৈরি করে ভালো সাড়া পেয়েছিলাম। পরীক্ষার দিন অনেকেই কক্ষ খুঁজে না পেয়ে হতাশায় পড়ে যান। তাই নতুন কেন্দ্রগুলোর তথ্য ও বর্তমান পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপটি আপডেট করেছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখন পর্যন্ত অ্যাপটি শুধু বাকৃবি কেন্দ্রের জন্য কাজ করছে। তবে আমরা চাই, কৃষি গুচ্ছভুক্ত প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের মতো করে স্থানীয়ভাবে প্রতিনিধি নিয়োগ হোক। সবার সাথে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে অ্যাপটি গুচ্ছভুক্ত সব কেন্দ্রের জন্য উপযোগী করে তুলতে চাই।’
অ্যাপে প্রবেশ করা যাবে ওয়েবলিঙ্ক কিংবা কিউআর কোড স্ক্যান করে। অ্যাপটির মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের সময় যেমন বাঁচবে, তেমনি কক্ষ খুঁজে না-পাওয়ার দুশ্চিন্তাও দূর হবে বলে আশা করছি।
এ সময় অধ্যাপক ড. মো: রোস্তম আলী জানান, ‘ভর্তি পরীক্ষার দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পক্ষ থেকে একটি সহযোগিতা বুথ খোলা থাকবে। সেখানে প্রবেশপত্র বিষয়ক বা টেকনিক্যাল জটিলতা সমাধানে তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়া যাবে।
অধ্যাপক মো: জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবনী দক্ষতা দিয়ে যেভাবে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমস্যার সমাধান দিচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি ভর্তিচ্ছুদের মানসিক চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেবে।’
এর আগেও এই শিক্ষার্থীরা ‘অ্যাডমিশন রোডম্যাপ’ নামের আরেকটি অ্যাপ তৈরি করেছিলেন যা নবীন শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে নির্দেশনা দিয়ে সহজ করে তোলে। এবার ‘এক্সাম হল ফাইন্ডার’ অ্যাপের হালনাগাদ সংস্করণ প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে পরীক্ষার দিনটিকেও করে তুলবে আরো বেশি সহজ।