কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মোটরসাইকেল ও সিএনজির সংঘর্ষে শোভন(১৭) ও লাম(২০) নামের দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) বিকেল ৫টার দিকে পাকুন্দিয়া পৌরসদরের বরাটিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় নাজিম(২০) নামে একজন সিএনজি যাত্রী আহত হন।
নিহত শিক্ষার্থীরা হলেন- উপজেলার বীর পাকুন্দিয়া গ্রামের নয়াবাড়ির বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিনের ছেলে শোভন এবং মধ্য পাকুন্দিয়া গ্রামের পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফছর উদ্দিন মানিকের ছেলে লাম। তারা দুজনই পাকুন্দিয়া সরকারি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
এছাড়া আহত নাজিম সিএনজি যাত্রী করিমগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে।
পাকুন্দিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মো: মোবারক হোসেন দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, কলেজ শিক্ষার্থী শোভন এবং লাম দুই বন্ধু মিলে মোটরসাইকেলে করে উপজেলা সদর থেকে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রোডে মির্জাপুর যাচ্ছিল। পথে বরাটিয়া নামক স্থানে পৌঁছলে একটি কুকুরের সাথে ধাক্কা লেগে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজির সাথে সংঘর্ষ হয়। এসময় তারা মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে গুরুত্বর আহত হন। এতে ঘটনাস্থলেই শোভন মারা যায়। আহত লামকে পাকুন্দিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার সময় সিএনজিটিও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে পাঁচজন যাত্রী আহত হয়। আহতদের মধ্যে করিমগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর গ্রামের মো: নাজিম পাকুন্দিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পাকুন্দিয়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: নূর এ আলম খান জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতর আহত একজনকে কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এছাড়াও একজনকে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রাখা হয়েছে।
পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, ‘মোটরবাইকের সাথে সিএনজির সংঘর্ষে দু’জন মারা যাওয়ার ঘটনায় সিএনজিকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’