সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সকাল রাজধানীবাসীর জন্য হয়ে উঠল দুর্ভোগের প্রতীক। শুক্রবার (১ মে) ভোর থেকে ঢাকার আকাশে ঘন মেঘের সাথে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। অল্প সময়ের ভারী বর্ষণে রামপুরা, মালিবাগ ও খিলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়, হাঁটুসমান পানি জমে যায় অলিগলিতে। এতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বাজারে যাওয়া ক্রেতা ও ছোট যানবাহনের চালক-সবাই পড়েন বিপাকে।
রামপুরার জামতলা এলাকায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দেখা গেছে, হাঁটুসমান পানি জমে গেছে। অনেকেই জুতা হাতে নিয়ে পানির মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন, কেউবা রিকশা বা ভ্যানে উঠতে বাধ্য হচ্ছেন।
মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায়ও একই চিত্র-সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে ছোট যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে, রিকশাচালকদের বাড়তি ভাড়া দাবি নিয়ে যাত্রীদের সাথে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।
খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়া ও রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় পানি জমে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে ধীরগতি দেখা যায়। অনেক মোটরসাইকেল আরোহীকে বিকল্প পথ নিতে বাধ্য হতে হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম জানান, সকালে কোচিং ক্লাসে যেতে পারেননি-রিকশা পাওয়া যাচ্ছিল না, আর পেলেও ভাড়া ছিল অতিরিক্ত।
অন্যদিকে বাজারে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষও।
সবজি বিক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, বৃষ্টির কারণে ক্রেতা কম এসেছে, আর পানি জমে থাকায় সবজি আনতে সমস্যা হয়েছে।
মাছ বিক্রেতা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ভোরে মাছ নিয়ে বাজারে আসতে গিয়ে ভ্যানে করে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ঢাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা নতুন নয়। অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়, যা নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং খাল-নালা ভরাট হয়ে যাওয়াকেই তারা প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রামপুরার বাসিন্দা মো: শামছুল বলেন, ‘প্রতিবারই উন্নয়নের কথা শুনি, কিন্তু বৃষ্টি হলেই পুরোনো সমস্যাগুলো সামনে চলে আসে। অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই যদি রাস্তা ডুবে যায়, তাহলে এত উন্নয়নের কী মানে?’