চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বহুল আলোচিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজিব কান্তি রুদ্রকে বান্দরবান জেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) পদে পদায়ন করা হয়েছে।

রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

ইউএনওর বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও তার কর্মকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বলে দাবি করা ব্যক্তিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, কর্ণফুলী উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী আজিজুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন তিনি। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। তবে ছয় মাস পার হলেও নতুন কমিটি গঠন না হওয়ায় প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরপাথরঘাটা ইউনুস মার্কেট এলাকার ‘মেসার্স আর রহমান বেকারি’ দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রশাসনের নজরে আনলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এছাড়া কলেজ বাজার এলাকার কয়েকটি রেস্টুরেন্টে শিক্ষার্থীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে স্থানীয়রা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন। একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

মইজ্জারটেক সিডিএ আবাসিক এলাকার একমাত্র খেলার মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসানো নিয়েও ইউএনওকে ঘিরে সমালোচনা রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাট পরিচালনার ফলে মাঠটি দূষিত হয়ে খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যৎ হাট ব্যবহারের জন্য স্থাপনা রেখে দেয়ায় তরুণদের ক্রীড়াচর্চার সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।

অন্যদিকে কর্ণফুলী আবদুল জলিল চৌধুরী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠ কোরবানির পশুর হাট হিসেবে ইজারা দেয়াকে কেন্দ্র করেও ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদন ছাড়াই প্রায় অর্ধকোটি টাকায় মাঠটি ইজারা দেয়া হয় এবং প্রতিষ্ঠান কোনো অর্থ পায়নি।

প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক জানান, ‘মাঠ ব্যবহারের আগে কর্তৃপক্ষের সাথে কোনো আলোচনা বা অনুমতি নেয়া হয়নি। ইজারা সম্পন্ন হওয়ার পর কেবল একটি রিসিভ কপি দেয়া হয়েছে।’

স্থানীয়রা বলেন, একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলার অভিভাবকসুলভ দায়িত্ব পালন করবেন—এমন প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু অভিযোগের প্রতিকার না পাওয়ায় হতাশা তৈরি হয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউএনও সজিব কান্তি রুদ্রের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ইউনুস মার্কেটের আর রহমান বেকারিতে এখনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে সেখানে অভিযান চালানো হবে।’

কলেজ বাজার এলাকার স্কুল-কলেজ মাঠে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোরবানির পশুর হাট বসানোর অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘হাট বসানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছিল।’

আজিজুর রহমানকে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মনোনয়নের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকায় কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।’

মইজ্জারটেক সিডিএ আবাসিক এলাকার মাঠে পশুর হাটের খুঁটি এখনো অপসারণ করা হয়নি—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার জানা মতে সেখানে বর্তমানে কোনো খুঁটি নেই।’

আর কলেজ বাজার এলাকার রেস্টুরেন্টগুলোতে কথিত অসামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধে অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এসব কার্যক্রম বন্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।’