লুট হওয়া পাথর উদ্ধারে অ্যাকশনে নেমেছে যৌথবাহিনী। দিন-রাত চলছে অভিযান। বাড়ি-ঘর আঙিনা থেকে শুরু করে ট্রাক ভর্তি পাথর জব্দের পর, এবার মাটিচাপা দেয়া পাথর উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী। গত ৩ দিনের অভিযানে শুধু সিলেট থেকেই উদ্ধার হয়েছে ১ লাখ ঘনফুট পাথর। এরমধ্যে ৫০ হাজার ফুট পাথর সাদাপাথরে পুনস্থাপন হয়েছে। বাকি ৫০ হাজার ফুট পাথর পুনস্থাপনের চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে দৈনিক নয়া দিগন্তকে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মো: মাহবুব মুরাদ।
তিনি জানান, বুধবার দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত যৌথবাহিনীর টানা অভিযানে শুধু সিলেট থেকে ১ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে ৫০ হাজার ঘনফুট পাথর সাদাপাথরে পুনস্থাপন হয়েছে। বাকিগুলো পুনস্থাপনের কাজ চলছে। সিলেটের বাইরে বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার করা পাথর এখনো আমাদের কাছে আসেনি। আসার পর সেগুলোও যোগ হবে।
এদিকে সাদাপাথর থেকে লুট হওয়া পাথর উদ্ধারে প্রশাসনের অভিযান শুরুর পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিযানের ভয়ে বিভিন্ন ক্রাশার মিল মালিক লুট করা পাথরের ওপর বালু ও মাটি ফেলে তা আড়াল করার চেষ্টা করছেন।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকালে কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ ঘাট থেকে সিলেট সদর উপজেলার ধোপাগুল পর্যন্ত ক্রাশার মিল ও মজুদ এলাকায় এমন দৃশ্য দেখা যায়। বুধবার রাতে অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অধিকাংশ ক্রাশার মিল বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ক্রাশার মিলের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এতে অনেক মিল মালিক ও বালু-পাথর ব্যবসায়ীরা গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ভোলাগঞ্জের ক্রাশার মিল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে- মিলের সামনে আমদানি করা পাথর রাখা হলেও পেছনের লুটের পাথর বালু দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে দ্রুত পাথর ভেঙে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চলছে। সদর উপজেলার ধোপাগুল-লালবাগ ও শহীদ মিনার এলাকায় মিলের পাশে মাটি ফেলে পাথর ঢেকে রাখা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও মিলকর্মীরা মুখ খুলতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসিন্দা জানান, অভিযানের পর মিল মালিকরা বিপাকে পড়েছেন। সরকারি অভিযানকারী দলের চোখ এড়াতে বালু বা মাটির স্তূপের আড়ালে পাথর ঢেকে রাখা হচ্ছে।
আরেক শ্রমিক জানান, কিছু পাথরকে পুরোনো বা কালচে দেখাতে মাটি ও বালু মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে।
সিলেট সদর উপজেলার ইউএনও খোশনূর রুবাইয়াৎ বলেন, ‘আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। বালু-মাটি দিয়ে পাথর লুকানো হলেও উদ্ধার অভিযান চলবে। খবর পেয়েছি, বিভিন্ন বাড়িতেও পাথর লুকানো হচ্ছে।’
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইউএনও আজিজুন্নাহারও একই তথ্য দেন এবং লুকানো পাথর উদ্ধারের আশ্বাস দেন।
গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই সাদাপাথর এলাকায় শুরু হয় ব্যাপক লুটপাট। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এতে জড়িত ছিলেন। ধলাই নদীর উৎসমুখে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ পাথর দিনের বেলা প্রকাশ্যে নৌকায় করে সরিয়ে নেয়া হয়। শত শত নৌকা দিয়ে প্রতিদিন পাথর পরিবহন করা হয়েছে, এমনকি নদীতীরের বালিও উত্তোলন করা হয়েছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মো: মাহবুব মুরাদ দৈনিক নয়া দিগন্তকে বলেন, সাদাপাথর থেকে চুরি হওয়া পাথর উদ্ধারে যৌথবাহিনীর নিরবিচ্ছিন্ন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একইসাথে পাথর পুনস্থাপন কাজও চলছে।