চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন।

সোমবার (৩১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় সৌদিয়া পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের সাথে অপর একটি মিনিবাসের সংঘর্ষে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- লোহাগাড়া পদুয়া ইউনিয়নের আধার মানিক এলাকার আলমের ছেলে রিফাত হোসেন (১৯), একই এলাকার বাসিন্দা সোনামিয়ার পুত্র আরাফাত (২১), একই ইউনিয়নের ছগিরা পাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে নাজিম, সুখছড়ি মৌলভীপাড়ার আমির হোসেনের ছেলে জিয়ান হোসেন অপু ও সাতকানিয়া উপজেলার ডেলিয়া পাড়ার ছাত্তারের ছেলে ছিদ্দিক।

স্থানীয়রা জানান, রিফাত এবং আরাফাত কলেজ পড়ুয়া যুবক, রমজান এক মাসের জন্য চাকরি করতে যান কক্সবাজার। চাকরি শেষে সোমবার সকালে বাড়িতে ফেরার সময় চুনতির জাঙ্গালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে এবং ঘটনাস্থলেই দু’জন মারা যান।

আহতরা হলেন- কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বারদোনা গ্রামের নুরুল কবিরের ছেলে রবিউল আলম (২৫), একই এলাকার পেটান সওদাগরের ছেলে আবুল কাশেম (৫০), ইসলামনগরের বাসিন্দা মাহবুবুল আলমের ছেলে মোহাম্মদ জসিম (২১), সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ইসহাকের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (১৭), একই এলাকার আবদুল আলামের ছেলে মোহাম্মদ আসিফ, হাজারখীল গ্রামের আবদুল হাকিমের ছেলে মোহাম্মদ মানিক, দক্ষিণ ডেমশা এলাকার মোহাম্মদ জাকারিয়ার ছেলে মোহাম্মদ এহসান, দুর্লভের পাড়ার বাসিন্দা আবদুর রহিমের ছেলে সোহান (১৭), লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের আঠারগলি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইসমাইলের ছেলে সাইদুল ইসলাম (২১)সহ ১৫ জন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সৌদিয়া পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে অপর বাসটি কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের দিকে আসছিল। এরই মধ্যে চুনতি জাঙ্গালিয়া মাজার গেট এলাকায় আসলে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, চট্টগ্রামের লোহাগড়ার জাঙ্গালিয়া মাজার গেট এলাকায় সৌদিয়া পরিবহনের বাসের সাথে একটি মিনিবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। পরে লোহাগাড়া ফায়ার স্টেশনেরে একটি ইউনিট উদ্ধার কার্যক্রম চালায়। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এলাকাটি অনেক বেশি দুর্ঘটনাপ্রবণ। এই স্থানে প্রায় সময় দুর্ঘটনা হয়। এর আগে একবার ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে । তখন থেকে স্থানটি দুর্ঘটনার হট স্পট হিসেবে পরিচিত।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শুভরঞ্জন চাকমা জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস দু’টি উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। নিহতদের লাশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।