কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওটি উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের করপাটি গ্রামের বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের করপাটি দক্ষিণপাড়ার রিপন মিয়ার ছেলে সিয়াম ও সিয়াত নামে দুই কিশোরের নেতৃত্বে কয়েকজন কিশোরকে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র, যেমন- ছোরা, রামদা, চাপাতি ইত্যাদি নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যাচ্ছে। একই গ্রুপের সদস্যদের হাতে এক মাদরাসাছাত্র সায়মনকে নির্মমভাবে মারধরের আরেকটি ভিডিওও ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সায়মনকে এলোপাথাড়ি কিল, ঘুষি, লাথি মারছে।

সূত্রে জানা গেছে, এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মাদরাসার ছাত্রদের মারধর, হত্যাচেষ্টা, মাছ চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে মাদরাসাছাত্র জোবায়ের তোহাকে ছুরিকাঘাতে হত্যাচেষ্টা, শিবিরকর্মী মাজহারুল মুন্নাকে মারধরসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

গ্যাং লিডারদের কয়েকজন সদস্য স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথেও জড়িত বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তারা মাদরাসা ছুটির পর মেয়েদের ইভটিজিং করে এবং অস্ত্র থাকায় কেউ তাদের বাধা দেয়ার সাহস পায় না।

মারধরের শিকার মাদরাসাছাত্র সায়মন জানিয়েছেন, গত রোববার বিনা কারণে তার উপর হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ছুরিকাঘাতের শিকার জোবায়ের জানান, সিয়াম, সিয়াতের নেতৃত্বে তার উপর ছুরি দিয়ে হামলা করা হয়েছিল এবং তার গলায় এখনো ছুরির দাগ রয়েছে।

মরকটা ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা কবির আহাম্মদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ বিষয়ে তিনি একজন শিক্ষককে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য নাছির উদ্দিন জানান, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন জানান, ভিডিওতে দেখা কিশোরদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের অভিযান চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামাল হোসেন জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।