সাদাপাথরসহ সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন স্পট থেকে লুট হওয়া পাথর উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রোববারও দিনভর চলেছে অভিযান। পৃথক অভিযানে আরো ১৫ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধারের পাশাপাশি ২ জনকে আটক করা হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ৪ দিনে লুট হওয়া ৪ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে পুনস্থাপন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ঘনফুট পাথর। একইসাথে জাফলং থেকে লুট হওয়া পাথর উদ্ধারের পাশাপাশি ৫০টি নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে।
পাশাপাশি সাদাপাথরের পাথর লুটের ঘটনা তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। আরো তিন দিন সময় বাড়ানো হয়েছে। তদন্ত কমিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সময় বৃদ্ধি করা হয়। আগামী বুধবার (২০ আগস্ট) তাদের তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা রয়েছে।
রোববার (১৭ আগস্ট) তদন্ত কমিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিন দিন সময় বাড়ানো হয় বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসন সিংহ।
সালুটিকর থেকে ১১ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার ও আটক ২
সিলেট সদর উপজেলার সালুটিকর ভাটা এলাকায় মাটিচাপা অবস্থায় অন্তত ১১ হাজার ঘনফুটেরও বেশি পাথর জব্দ করেছে যৌথ বাহিনী। এ সময় পাথর লুটের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ জনকে আটক করা হয়েছে।
রোববার (১৭ আগস্ট) সকালে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরডিসি আশিক মাহমুদ কবিরের নেতৃত্বে অভিযানে নামে যৌথ বাহিনী। অভিযানে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।
অভিযানের একপর্যায়ে ধোপাগুল সংলগ্ন সালুটিকর ভাটা এলাকায় একটি ক্রাশার মিলের আঙ্গিনায় মাটিচাপা অবস্থায় পাথরের সন্ধান পাওয়া যায়। জব্দ পাথরের পরিমাণ আনুমানিক ১১ হাজার ঘনফুট হতে পারে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। লুট হওয়া পাথর উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান কর্মকর্তারা।
এর আগে, শনিবার ধোপাগুল এলাকার বসতবাড়ি ও ক্রাশার মিলে অভিযান চালিয়ে আড়াই লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী। একইদিনে গোয়াইনঘাটের ফতেপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি এলাকা থেকে ২৫০০ ঘনফুট সাদা পাথর জব্দ করা হয়। শনিবার গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারীর নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।
গেলো সপ্তাহে টানা কয়েকদিন প্রকাশ্যে পাথর লুটপাটের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর, ১৩ আগস্ট থেকে লুট ঠেকাতে ও পাথর উদ্ধারে কঠোর অবস্থানে নামে প্রশাসন। গত চার দিনে প্রায় চার লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, সম্প্রতি সিলেটের সাদাপাথর এবং জাফলং পর্যটনকেন্দ্রের লাখ লাখ ঘনফুট পাথর লুটের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয় সারাদেশে। নড়েচড়ে বসে সরকার। এমনকি রিট হয় উচ্চ আদালতেও। আদালত লুন্টিত পাথর উদ্ধার করে যথাস্থানে প্রতিস্থাপনেরও নির্দেশ দিয়েছেন।
এমন প্রেক্ষাপটে সিলেটসহ সারাদেশে শুরু হয় সাঁড়াশি অভিযান। উদ্ধার হয় অন্তত ৪ লক্ষাধিক ঘনফুট পাথর। গত ১২ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত হয় একটি তদন্ত কমিটি। সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসন সিংহকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- পাথর লুটের ঘটনায় বিতর্কিত কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও আজিজুন্নাহার ও পরিবেশ অধিদফতর সিলেটের সহকারী পরিচালক আফজালুল ইসলাম।
পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে রোববার (১৭ আগস্ট) এ কমিটির রিপোর্ট দেয়ার কথা ছিল। তবে তা আর হয়নি। প্রয়োজনীয় কাজ শেষ না হওয়ায় কমিটি জেলা প্রশাসকের কাছে আরা তিন দিন সময় চেয়েছেন এবং তা মঞ্জুরও হয়েছে। সেই হিসাবে তদন্ত কমিটি আগামী বুধবার তাদের রিপোর্ট জমা দেবে।
কমিটির অন্যতম সদস্য পরিবেশ অধিদফতর সিলেটের সহকারী পরিচালক আফজালুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, রোববার (আজ) রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা থাকলেও আমাদের আরো কয়েকদিন সময় প্রয়োজন। সময় বৃদ্ধির আবেদন করায় তা মঞ্জুর হয়েছে এবং আগামী বুধবার আমরা প্রতিবেদন জমা দেবো।
জাফলংয়ে পাথর উদ্ধার, ৫০ নৌকা ধ্বংস
গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং পর্যটন স্পট জিরোপয়েন্ট থেকে চুরি হওয়া পাথর উদ্ধারে সিলেট জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রোববার (১৭ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: ফরহাদ উদ্দিনের নেতৃত্বে দুপুর ২টা পর্যন্ত আনুমানিক ১৫০০ ঘনফুট পাথর জুমপাড় এলাকা থেকে উদ্ধার করে জাফলং জিরো পয়েন্টে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
সেই সাথে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে কমপক্ষে ৫০টি নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে। টাস্কফোর্স অভিযানে সহায়তা করে পুলিশ ও বিজিবি।
উল্লেখ্য, গত ৪ দিনের অভিযানে জাফলং থেকে লুট হওয়া প্রায় ১০ হাজার ঘনফুট লুট করা পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পাথর নদীতে পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে জাফলং জিরোপয়েন্ট এলাকায় নৌকা দিয়ে ফেলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ দিনে সিলেটর কোম্পানীগঞ্জ, সদর, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় চার লাখ ঘনফুট সাদাপাথর জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে জব্দ হওয়া পাথর এখনো জেলা প্রশাসনের কাছে না পৌঁছায় সেগুলো যোগ হয়নি। তবে লুট পাথর উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযান চলবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্র নিশ্চিত করেছে।