ঢাকার সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের মঝে ফ্রি ওষুধ বিতরণ নিয়ে রোগীর স্বজন ও ফার্মেসির কর্মচারীদের মধ্যে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

মঙ্গলবার (২৭ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় তিন সদস্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে দৈনিক নয়া দিগন্তকে নিশ্চিত করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো: তৌহিদ আল-হাসান।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে চিকিৎসাসেবার নামে হয়রানিসহ নানা রকম অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, কথিত দালালদের প্রতারণা ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন কর্তব্যরত ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের লেখা ওষুধ আনতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফার্মেসিতে যান। সেখানে ওষুধ না দিয়ে প্রেসক্রিপশনের স্লিপ রেখে দেয়া হয়। তখন রোগীর স্বজন ওুষধ না পেয়ে এবং স্লিপটি রেখে দেয়া হলে এর প্রতিবাদ করে। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়ভ।

রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে ওষুধ থাকলেও কর্তৃপক্ষ তাদের দেয়নি। পরে এর প্রতিবাদ করলে রোগীর স্বজনদের শারীরিকভাবে হেনস্থা করেন হাসপাতালের এক কর্মচারী। এ সময় উপস্থিত অন্য রোগী ও স্বজনেরাও এর প্রতিবাদ করে। ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ঘটনার সাথে জড়িত কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে হাসপাতালের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে।

এক নারী রোগী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার জন্য আসছি আমরা। তিনি ডাক্তারের স্লিপ দেখিয়ে বলেন, যে ওষুধ ডাক্তার লিখে দিয়েছেন তা আমাদের দেয়া হচ্ছে না।

ওই নারী আরো বলেন, আমরা অসহায়। কারণ বাহিরের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কেনার মতো আমাদের সক্ষমতা নেই।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো: তৌহিদ আল-হাসান জানান, ঘটনার সময় তিনি উপজেলায় একটি মিটিংয়ে ছিলেন। পরে তিনি খবর নিয়ে জানতে পেরেছেন যে ডাক্তারের লিখে দেয়া চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ না পেয়ে সেবাগ্রহীতা উত্তেজিত হয়।