আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ফরিদ মোল্যা (৫৭) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এই সংঘর্ষ হয়। এরপর রাতে দেশী অস্ত্রসহ ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনী।

নিহত ফরিদ মোল্যা কাঞ্চনপুর গ্রামের সুরত মোল্যার ছেলে। আহতদের নড়াইল জেলা হাসপাতাল ও খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, ফরিদ মোল্যা নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে আফতাব গ্রুপের সোহরাব মোল্যা, পারভেজ শেখ, নাঈম শেখ, সোবহান শেখ, এনায়েত কাজী, আজিজুর মোল্যা, ফায়েক মোল্যা, নেসার মোল্যা, শিমুল শেখ, শামীম শেখ, ইকবাল গাজীসহ আরো অন্তত ২০ জন রাতভর প্রতিপক্ষের লোকজনের বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাংচুর এবং লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা নারী ও শিশুদের মারধরসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে।

এরপর শুক্রবার (১১ এপ্রিল) রাতে দেশী অস্ত্রসহ ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনী। তাদের কালিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আমিরুল ইসলাম, আতিকুর রহমান, হাচিবুর রহমান, মোরসালিন, হাসেম মোল্যা, মনি মিয়া, মুজাহিদুল, সিরাজ মোল্যা, দিকু শেখ, আবু জাফর মোল্যা, শাহাদাত হোসেন, মুন্নু শেখ, শাহাজান, ইউসুফ, নয়ন মোল্যা, আব্দুল মান্নান, জমির মল্লিক, দিদার মোল্যা, মনিরুল ইসলাম ও আমরবন হোসাইন। এদের বাড়ি কাঞ্চনপুর গ্রামে।

কালিয়া থানার ওসি রাশিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কালিয়ার কাঞ্চনপুর গ্রামের মিলন মোল্যা এবং আতাউর রহমান আফতাব মোল্যা পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ইতোপূর্বে একাধিক সংঘর্ষও হয়েছে এ দু’পক্ষের মধ্যে। এসব ঘটনায় উভয়পক্ষে একাধিক মামলাও হয়েছে। ঈদুল ফিতরের দিন থেকে গ্রামটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর জের ধরে শুক্রবার এ সংঘর্ষ হলো।

নিহত ফরিদ আফতাব মোল্যা পক্ষের সমর্থক।

এছাড়া আহতরা হলেন- করিম মুন্সি, হুসাইন শেখ, আশরাফ মোল্যা, বশির মুন্সি, করিম মুন্সি, জালাল মুন্সি, তৌহিদ মোল্যা, আলমিস শেখ, নিরব মোল্যা, হাসিব মোল্যা, কিবরিয়া, ওসমান মোল্যা, কামাল কাজী, তরিক শেখ, জাকারিয়া শেখ, দিদার শেখসহ অন্তত ৩০ জন।

কালিয়া থানার ওসি রাশিদুল ইসলাম বলেন, এলাকায় যৌথবাহিনী রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশী অস্ত্রসহ ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।