নীলফামারীতে দু’টি পৃথক স্থানে গ্যাস সিলিন্ডার ও উত্তরা ইপিজেডের একটি কারখানায় মেশিন বিস্ফোরণে দুইবোনসহ চারজন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুইটি আক্তার (২০) নামে একজন মারা গেছেন।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) এ ঘটনা ঘটে। আহতদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়েছে।
নিহত সুইটি আক্তার ও তার বোন আহত তাসকিনা আক্তার (২৪) নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের হরিনচড়া গ্রামের বাবুল হোসেনের মেয়ে।
তারা দুই বোন উত্তরা ইপিজেডের সেকশন সেভেন কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন ও ইপিজেড সংলগ্ন আরিফুলের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে জেলা সদর থানার উত্তরা ইপিজেড সংলগ্ন হাজীপাড়ার এলাকায় বাড়িতে রান্নার সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সুইটি আক্তার (২০) ও তাসকিনা আক্তার(২৪) নামে দুই বোন দগ্ধ হন। এ ঘটনায় সুইটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বিকেলে মারা যান।
উত্তরা ইপিজেড ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন সিনিয়র স্টেশন অফিসার খুরশীদ আলম ও স্থানীয়রা জানান, সকাল ৬টার দিকে রান্নার সময় হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ হয়। এতে সুইটি আক্তার ও তাসকিনা আক্তার অগ্নিদগ্ধ হন। অগ্নিদগ্ধ দুই বোনকে উদ্ধার করে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখানকার চিকিৎসক তাদেরকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানাস্তরিত করেন।
অপর দিকে একই দিন বেলা ১২টার দিকে নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে অবস্থিত সনিক কারখানার (খেলনা তৈরির কারখানায়) ডায়াস্টিক মেশিন বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হন।
আহত দুই শ্রমিক হলেন- লিটন চন্দ্র রায় (২৫) ও দেলোয়ার হোসেন (২৮)।
উত্তরা ইপিজেডের বেপজার নির্বাহী পরিচালক (ইডি) আব্দুল জব্বার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এরআগেও ওই কারখানায় একই কারণে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন।
এদিকে বিস্ফোরণের পর উত্তরা ইপিজেডের ওই কারখানার সকল শ্রমিক বাহিরে নেমে আসে এবং বিক্ষোভ করে সড়ক অবরোধ করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শ্রমিক জানান, ওই ফ্যাক্টরিতে হঠাৎ করে কাজের চাপ বেড়ে গেছে। ২৪ ঘন্টায় তিন ধাপে শ্রমিকরা কাজ করছে। ফলে খেলনা তৈরির মেশিনগুলো বিশেষ করে ডায়াস্টিক মেশিন বন্ধ করা হয় না। ধারনা করা হচ্ছে, ডায়াস্টিক মেশিন গরম হয়ে বিস্ফোরণ ঘটেছে।
শ্রমিকরা আরো জানান, এর আগে চলতি বছরের গত ৬ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে ডায়াস্টিক মেশিন বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই শ্রমিক রমজান আলী (২৬) ও খায়রুল ইসলাম (২৫) অগ্নিদগ্ধ হয়েছিল। তাদের চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে গত ১০ এপ্রিল খায়রুল ও ১২ এপ্রিল রমজান মারা যান। এরপরেও সনিক কারখানাটির কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে ওই কারখানার ভেতরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং নীলফামারী- সৈয়দপুর মহাসড়কের ইপিজেড মোড়ে সড়ক অবরোধ করে। পরে নীলফামারী জেলা সদরের ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট, সেনাবাহিনী, র্যাব এবং অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।