উপমহাদেশের প্রখ্যাত দার্শনিক, কবি ও চিন্তাবিদ আল্লামা মোহাম্মদ ইকবালের ৮৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে "আল্লামা ইকবালের রাষ্ট্রচিন্তা" শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার (২১ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আর সি মজুমদার মিলনায়তনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। "আল্লামা ইকবাল সংসদ" এর উদ্যোগে আয়োজিত এই স্মরণসভায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাহিত্যিক, গবেষক এবং ইকবাল অনুরাগীগণ অংশগ্রহণ করেন।

আল্লামা ইকবাল সংসদের সভাপতি বিশিষ্ট সাহিত্যিক অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান সভাপতিত্বে ও শিল্পী কামাল মিনার সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ড. আব্দুল্লাহ মাসুম লতিফ, গ্রিন ওয়াচের এডিটর মোস্তফা কামাল মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর আব্দুর রশীদ। মূল প্রবন্ধকার ছিলেন শান্তা মরিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মহিউদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আল্লামা ইকবাল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহিদ।

স্মরণসভায় অন্যান্য বক্তারাও আল্লামা ইকবালের বিভিন্ন কবিতা ও তাঁর দার্শনিক চিন্তার তাৎপর্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে ইকবাল রচিত কবিতা আবৃত্তি ও সঙ্গীত পরিবেশিত হয়।

আয়োজকরা জানান, প্রতি বছর তারা এ ধরনের স্মরণসভার আয়োজন করে আল্লামা ইকবালের অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চান।

সভায় বক্তারা আল্লামা ইকবালের জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

তারা বলেন, ইকবাল ছিলেন একজন দূরদর্শী চিন্তাবিদ যিনি তাঁর কবিতার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং আত্মপরিচয় অনুসন্ধানের প্রেরণা যুগিয়েছিলেন। তাঁর দর্শন আজও মুসলিম বিশ্বের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আজ গাজাবাসীর দুর্দশা নিয়ে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সামগ্রিকভাবে মুসলিম উম্মাহ এবং বিশেষ করে উপমহাদেশের মুসলিমদের নিয়ে গভীর চিন্তা প্রকাশ করেছেন। তাঁর চিন্তাভাবনায় মুসলিম ঐক্যের গুরুত্ব, আত্মপরিচয় পুনরুদ্ধার এবং আধুনিক বিশ্বে ইসলামের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে উল্লেখ করেন বক্তারা ।

অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান সভাপতির বক্তব্যে বলেন, আল্লামা ইকবাল কেবল একজন কবিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং দার্শনিক। তাঁর কবিতা ও চিন্তাধারা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর প্রভাব ফেলেছে।

তিনি আরো বলেন, আল্লামা ইকবাল উপমহাদেশের মুসলিমদের একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর চিন্তাভাবনার ফলস্বরূপই পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। তিনি চেয়েছিলেন উপমহাদেশের মুসলিমরা যেন তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে একটি স্বাধীন ও উন্নত জীবন যাপন করতে পারে। ইকবাল মুসলিমদের তাদের গৌরবময় ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন এবং আত্মপরিচয় ও আত্মমর্যাদা নিয়ে জেগে ওঠার আহ্বান করেছেন।