গতকাল মঙ্গলবার বৃষ্টিহীন থাকায় আজ সকালে রাজধানীর বায়ুমানে কিছুটা অবনতি দেখা গেছে। তবে তা এখনো তা কোনো ধরনের অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে প্রাণ ভরে শ্বাস নিতে ঢাকাবাসীর খুব বেশি দুশ্চিন্তার কারণ নেই।

আজ বুধবার সকাল ৯টায় ঢাকার বায়ুমান ছিল ‘মাঝারি’ শ্রেণিতে। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী, এ সময় শহরের একিউআই স্কোর ছিল ৭৭। এর আগের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার সকালে স্কোর ছিল কিছুটা কম- ৬০।

স্কোর বাড়ার ফলে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থানও একটু উপরে উঠেছে। মঙ্গলবার যেখানে শহরটি ছিল ৪২তম, আজ তা উঠে এসেছে ২৮তম স্থানে। তবে ঢাকার প্রেক্ষাপটে এটিও তুলনামূলকভাবে স্বস্তির খবর, কারণ বছরের বেশিভাগ সময় বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর সাথেই প্রতিযোগিতা করে রাজধানী ঢাকা।

আজকের তালিকায় সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে উঠে এসেছে কঙ্গোর কিনশাসা, যার একিউআই স্কোর ১৮৪। এরপর যথাক্রমে ১৭৯, ১৬০ ও ১৫৩ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভিয়েতনামের হ্যানয়, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ও ভারতের দিল্লি। তালিকায় পরবর্তী দু’টি স্থানে আছে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ও ইনচন, যাদের স্কোর যথাক্রমে ১৪২ ও ১৩৭।

কণা দূষণের একিউআই মান যদি ০ থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকে, তবে তা ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০-এর মধ্যে হলে ‘মাঝারি’, আর ১০১ থেকে ১৫০-হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ বলে গণ্য করা হয়। এই পর্যায়ে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেয়া হয়। একিউআই সূচক ১৫১ থেকে ২০০-হলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০-হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশে একিউআই সূচক নির্ধারিত হয় পাঁচ ধরনের দূষণের ভিত্তিতে- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও₂), কার্বন মনো-অক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও₂) ও ওজোন।

ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণজনিত সমস্যায় ভুগছে। ‘শীতকালে’ এখানকার বায়ুমান সাধারণত সবচেয়ে খারাপ থাকে, আর ‘বর্ষাকালে’ তুলনামূলকভাবে উন্নত হয়। সূত্র : ইউএনবি