দুঃসময় শেষ হচ্ছে না সাকিব আল হাসানের। একের পর এক বিপদ চেপে ধরেছে তাকে। হত্যা মামলা তো আগেই হয়েছিল, জারি হয় গ্রেফতারি পরোয়ানাও। করা হয়েছে সম্পদ ক্রোক। এবার তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দুদক।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নানা কারণে প্রশ্নবিদ্ধ ছিলেন সাকিব আল হাসান। নানা সময় বিতর্কে জড়িয়েছে তার নাম। তবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির তার সম্পৃক্ততা উঠে আসছে আরো জোরালোভাবে।

শেয়ার বাজার দুর্নীতি, জুয়া ও ক্যাসিনোয় নাম লেখানো, সোনা পাচার, কাঁকড়ার ব্যবসায় দুর্নীতি, চেক ডিজঅনার, নির্বাচনী হলফনামায় নিজের সম্পত্তি লুকোনোসহ অসংখ্য অভিযোগ আগেই ছিল সাকিবের বিরুদ্ধে।

এবার আরো একটা অভিযোগ এলো সাবেক নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডারের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের (অর্থ পাচার) অভিযোগ এনে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

দুই সদস্যের এক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে তারা। দুদকের উপপরিচালক মাহবুবুল আলমকে অনুসন্ধান দলের প্রধান করা হয়েছে। দলের অপর সদস্য হলেন সহকারী পরিচালক মো: আশিকুর রহমান।

দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম অনুসন্ধান জানান, গত ৯ এপ্রিল থেকে তদন্ত শুরু হবার বিষয়টি জানালেও এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেননি।

এদিকে দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাকিব আল হাসানের দুর্নীতি অনুসন্ধানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।

এর আগে ৬ এপ্রিল সাকিবের বিরুদ্ধে ‘অনিয়ম-দুর্নীতির’ অভিযোগ অনুসন্ধান চলছে বলে জানান দুদক চেয়ারম্যান আবদুল মোমেন। সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের আশঙ্কা- এমনও হতে পারে, সাকিব দুদকের আসামিও হতে পারেন।’

মূলত সাকিবের বিরুদ্ধে নানা ‘অনিয়ম-দুর্নীতির’ অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গত বছরের ২৮ আগস্ট দুদকে আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মিলহানুর রহমান নাওমী। এরপর থেকেই বেড়িয়ে আসছে থলের বিড়াল।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে জাতীয় ক্রিকেট দলের তৎকালীন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দুদকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। দুদকের হটলাইন সেবা উদ্বোধনকালেও ছিলেন সাকিব।

তবে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠলে ২০২২ সালে সাকিবের সাথে চুক্তি না রাখার কথা জানায় তৎকালীন ড. মঈনউদ্দীন আব্দুল্লাহর নেতৃত্বাধীন কমিশন।