হারের খুব কাছেই ছিল রংপুর, হয়তো তিক্ততা হজম করার প্রস্তুতি নিতেও শুরু করেছিলেন অনেকে। তবে আবারো জাদু দেখালেন খালেদ আহমেদ, অবিশ্বাস্যভাবে জিতে গেল রংপুর।
এবার রংপুর রাইডার্সের শিকার বিগ ব্যাশের চ্যাম্পিয়ন দল হোবার্ট হ্যারিকেন্স। বেন ম্যাকডারমটের দলকে ১ রানে হারিয়েছে সোহানরা। দুই ম্যাচে দুই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে রংপুর।
শেষ ওভারে হোবার্টের সামনে ছিল ১৩ রানের সমীকরণ, প্রথম বল ওয়াইডের পর ওমরজাইয়ের পরের বলে ছক্কা হাঁকান নবী। পরের বলে আসে ডাবল। সমীকরণ তখন ৪ বলে ৪ রানের। এখান থেকেও কিনা জিতে যায় রংপুর।
রোববার গ্লোবাল সুপার লিগে গায়ানাউ মুখোমুখি হয় রংপুর রাইডার্স ও হোবার্ট হারিকেন্স। প্রথমে ব্যাট করে রংপুর ৬ উইকেটে ১৫১ রানের পুঁজি পায়। জবাবে শেষ ওভারের নাটকীয়তায় ১৫০ রানে অল আউট হয়ে যায় হোবার্ট।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ইবরাহীম জাদরানের ৩১ বলে ৪৩ ও কাইল মায়ার্সের অপরাজিত ৪২ বলে ৬৭ রানে দেড় শ’ ছাড়ায় রংপুরের পুঁজি। আজমতুল্লাহ ওমরজাই করেন ১৫ বলে ১৫ রান।
রাইডার্সদের হয়ে আর কেউ পারেননি দুই অংকের ঘরে যেতে। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ৩ ও ইয়াসির আলি করেন ৯ রান। সৌম্য করেন ৬ বলে ৫। হোবার্টের হয়ে ৩ উইকেট নেন পাকিস্তানি স্পিনার উসামা মির।
জবাবে শুরুতে উইকেট হারালেও দলকে সামলে এগিয়ে নিতে থাকেন বেন ম্যাকডারমট ও রাইট। দু'জনের ৪৯ রানের জুটি ভাঙেন খালেদ। ১৯ বলে ৩৪ রান করা ম্যাকডারমেটকে ফেরান তিনি।
এরপর জোড়া উইকেট নেন ইফতেখার আহমেদ, ১টি উইকেট পান রাকিবুল হাসানও। ১২ ওভারে ৮২ রানে ৫ উইকেট হারায় হোবার্ট। তবে এরপর নাবী ও ওডেন স্মিথ মিলে গড়েন ২৮ বলে ৪১ রানের জুটি।
এই জুটিও ভাঙেন খালেদ। ১৩ বলে ২০ রান করা স্মিথ শিকার তার। এরপর ১৯তম ওভারে নিজের শেষ ওভার করতে এসে আরো ২ উইকেট নেন খালেদ। ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে সব মিলিয়ে ৪ উইকেট পান তিনি।
১৮.৪ ওভারে ১৩৭ রানে ৮ উইকেট হারায় হোবার্ট। শেষ ৮ বলে করতে হতো ১৪ রান। একপ্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট করতে থাকা নাবী তখনো আশা দেখাচ্ছিলেন হোবার্টকে।
তবে ৩ বলে যখন ৪ রান দরকার, তখন নাবীকে ফেরান ওমরজাই। ৩৬ বলে ৪৪ করে আউট হোন তিনি। এরপর আর সমীকরণ মেলাতে পারেনি হোবার্ট। ১ রানে হেরে যায় তারা। আর টানা দ্বিতীয়বার ম্যাচ সেরা হোন খালেদ।