অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়ার পরও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে রাজি নয় বাংলাদেশ। ডারউইনে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও দলের লক্ষ্য এখন আরো বড়—সিরিজ জয়।

ঐতিহাসিক জয়ের পর বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমে ছিল উৎসবের আবহ। ক্রিকেটারদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি সবাইকে বিনয়ী থাকার বার্তা দিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রধান কোচ ফিল সিমন্সও প্রশংসা করেছেন দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের।

জয়ের পর ড্রেসিংরুমে ক্রিকেটারদের কঠোর পরিশ্রম, বোলিংয়ের শৃঙ্খলা এবং ব্যাটিংয়ের দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘তোমরা যে কঠোর পরিশ্রম করেছ, এই সাফল্য তোমাদের প্রাপ্য। তোমাদের নিয়ে আমি গর্বিত। তোমরা দারুণ করেছ। ইতিহাসের এই মুহূর্তের সাক্ষী হওয়ার জন্য তোমাদের অভিনন্দন।’

ম্যাচে একে অপরের সাফল্যে সতীর্থদের উচ্ছ্বাসও নজর কেড়েছে সিমন্সের। তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরি, হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিং, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজের অবদানের কথা আলাদা করে তুলে ধরেন তিনি।

সিমন্স বলেন, ‘তামিম, অসাধারণ। হাসান ও তামিম প্রথম ইনিংসটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল। শান্ত, তুমিও প্রথম ইনিংসটা নিয়ন্ত্রণ করেছ। মিরাজ, তুমিও এর অংশ ছিলে, দ্বিতীয় ইনিংসটা তুমি নিয়ন্ত্রণ করেছ।’

মুমিনুল হকের অবদানও তুলে ধরেন বাংলাদেশ কোচ। তার ভাষায়, ‘শুরুতেই একটি উইকেট হারানোর পর সে (মুমিনুল) এসে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং আমাদের ম্যাচ জিততে সাহায্য করেছে।’

তবে সিমন্সের কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে দলের খেলোয়াড়দের একে অপরের সাফল্যে আনন্দিত হওয়া।

তিনি বলেন, ‘এই ম্যাচে আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে ওপর থেকে বসে যখনই নিচের দিকে ক্যামেরা গেছে, তখনই সবার আনন্দ দেখা গেছে। সে যখন ৯০ রানে ছিল, যখন পাঁচ উইকেট পেয়েছে—সবার মুখে আনন্দ ছিল। দলের জন্য যে যা করছে, তার সাফল্যে সবাই যে খুশি হচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার।’

এমন দলীয় ঐক্যকে ভবিষ্যতের সাফল্যের বড় ভিত্তি হিসেবে দেখছেন সিমন্স। তবে একইসাথে দিয়েছেন সতর্কবার্তা। প্রথম টেস্ট জয়ের আবেগ যেন পরের ম্যাচের প্রস্তুতিতে প্রভাব না ফেলে, সেটিই চান তিনি।

সিমন্স বলেন, ‘আমার মনে হয়, মুশফিক এখন যে কথাটা বলেছে, সেটিই দেখিয়ে দেয় যে এই দল সফল হতে যাচ্ছে কিংবা এটি একটি সফল ধারার শুরু। এটি আমাদের জন্য বড় ইতিবাচক দিক। এখন আমি চাই আমরা একটি বিষয় ধরে রাখি। সাফল্য এবং ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আজ আবেগ অনেক ওপরে উঠবে, কিন্তু সেটিকে খুব বেশি বাড়তে দেয়া যাবে না। কারণ সিরিজ জিততে আমাদের সামনে এখনো আরেকটি ম্যাচ আছে। আমাদের লক্ষ্যের প্রথম ধাপে আমরা সফল হয়েছি।’

প্রথম টেস্ট জয়ের পরও তাই থামতে চান না সিমন্স।

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের আসার লক্ষ্য যে শুধু একটি টেস্ট জয় নয়, সেটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। সিমন্সের ভাষায়, ‘আমরা এখানে শুধু একটি টেস্ট ম্যাচের জন্য আসিনি, আমরা দুটি টেস্টের জন্য এসেছি। এখন একটি ম্যাচ শেষ হয়েছে, সামনে আমাদের আরো একটি ম্যাচ আছে।’

অর্থাৎ ডারউইনের ঐতিহাসিক জয়কে শেষ গন্তব্য নয়, সিরিজ জয়ের প্রথম ধাপ হিসেবেই দেখছেন বাংলাদেশ কোচ। তাই জয়ের আনন্দ পেছনে রেখে এখন দ্বিতীয় টেস্টেই মনোযোগ দিতে চান তিনি।