সিলেটে গতকাল বুধবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচটা ছিল বাংলাদেশের জন্য অনেক মাইলফলকের। কোনোটা ছিল দলের জন্য, কোনোটা আবার ব্যক্তিগত।
তবে নানা কীর্তির এই ম্যাচটায় জেতেনি বাংলাদেশ, আবার হারেওনি। আগে ব্যাট করে ১৮.২ ওভারে ১৬৪ রান করে বাংলাদেশ। এরপর বৃষ্টির কারণে আর মাঠে নামা যায়নি।
তবে যতক্ষণ খেলা হয়েছে, তাতেই গড়েছে অনেক কীর্তি। প্রথমত টস হওয়া মাত্রই অনন্য এক স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয় বাংলাদেশ, পা রাখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৮০০ ম্যাচের মাইলফলকে।
বিশ্বের দশম দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৮০০ ম্যাচের কীর্তি গড়ে টাইগাররা।
তাছাড়া এই ম্যাচে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে আরো এক বিরল ঘটনার সম্মুখীন হয় বাংলাদেশ। নিয়মিত দুই ওপেনার তানজিদ তামিম ও পারভেজ ইমনকে রাখা হয় একাদশের বাহিরে।
তাদের বদলে ওপেন করতে নামেন সাইফ হাসান ও লিটন দাস। তাতেই ঘুচে প্রায় দু’বছরের এক অপেক্ষা। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের পর বাংলাদেশের ওপেনিংয়ে দুই ডানহাতি ব্যাটারের দেখা মিলে।
তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৮১ ইনিংস পর ইনিংস উদ্বোধন করতে আসেন দুই ডানহাতি। শুধু টি-টোয়েন্টির হিসাব করলে, ৪০ ম্যাচ পর ঘটল এমন ঘটনা।
আবার ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের পর এবারই প্রথম বাংলাদেশের টপ-অর্ডারে দেখা গেল তিন ডানহাতি ব্যাটার। লিটন-সাইফের পর তিনে ব্যাট করতে নামেন তাওহীদ হৃদয়।
এদিকে দু’টি রেকর্ডের হাতছানি নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন লিটন দাস। ৪৬ বলে ৭৩ রান করার পথে ছুঁয়েছেন দু’টি রেকর্ডই। একটাতে পেরিয়ে গেছেন সাকিব আল হাসানকে, অন্যটায় বসেছেন মাহমুদউল্লাহর পাশে।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ফিফটিতে সাকিব আল হাসানের পাশে প্রথম ম্যাচেই বসেছিলেন। আর এবার তাকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। আর সর্বোচ্চ ছক্কায় বসেছেন মাহমুদউল্লাহর পাশে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৩টি ফিফটি ছিল সাকিবের, এবার তাকে ছাপিয়ে ১৪তম ফিফটি তুলে নেন লিটন। সাকিব ১২৯ ম্যাচে ১৩ ফিফটি পেলেও, লিটন তাকে পেরিয়ে গেছেন ১১০ ম্যাচেই।
পঞ্চাশোর্ধ রানের এই ইনিংস খেলার পথে ৬ চারের সাথে লিটন মেরেছেন ৪ ছক্কা। তাতে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ছক্কা মারার দৌড়ে বসেছেন মাহমুদউল্লাহর পাশে। টি-টোয়েন্টিতে দু’জনেরই সমান ৭৭টি করে ছক্কা আছে।
৭৭ ছক্কা মারতে মাহমুদউল্লাহর চেয়ে অনেক কম ম্যাচ খেলতে হয়েছে লিটনকে। মাহমুদউল্লাহ ১৪১ ম্যাচে মারেন ৭৭ ছয়, আর ১১০ ম্যাচেই তাকে স্পর্শ করে গেছেন লিটন।
এদিকে তিন ম্যাচ মিলিয়ে ১৫৬ স্ট্রাইকরেট আর ১৪৫ গড়ে সমান ১৪৫ রান করে সিরিজ সেরা নির্বাচিত হন লিটন দাস। তাতেও হয়েছে অনন্য এক রেকর্ড, দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে তিনবার সিরিজ সেরা হওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি।
তার আগে আছেন কেবল সাকিব আল হাসান। সাবেক নম্বর ওয়ান এই অলরাউন্ডার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাঁচবার সিরিজ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বোচ্চ সাতবার সিরিজ সেরা হয়েছেন বিরাট কোহলি।