রেকর্ড গড়েই জিতল বাংলাদেশ। নতুন মাইলফলক গড়ল টাইগাররা। ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিতলো তারা। সেই সাথে ফিরলো সিরিজে, বেঁচে রইল সিরিজ জয়ের আশা। শেষ ম্যাচটা রূপ নিলো অলিখিত ফাইনালে।
ঘরের মাঠে কখনো ১৬৬ রানের বেশি তাড়া করে জেতেনি বাংলাদেশ। ফলে জিততে হলে আজ রেকর্ড গড়তে হতো লিটন-সাইফদের। সাবলীলভাবেই সেই পথ পাড়ি দিয়েছে স্বাগতিকেরা, জয় এলো ৪ উইকেটে।
তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৭০ রানের পুঁজি পায় আইরিশরা। যা ১৯.৪ ওভারে পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। তবে প্রথম ম্যাচে হারায় সিরিজে এখন ১-১ সমতা।
বেশ দাপটের সাথেই লক্ষ্য তাড়া শুরু করে বাংলাদেশ। শুরুর দিকে তানজিদ তামিম (৭) রান আউট হয়ে ফিরলেও তার কোনো প্রভাব পড়তে দেননি লিটন দাস ও পারভেজ ইমন। সামনে থেকে পথ দেখান অধিনায়ক।
পাওয়ার প্লেতে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে যোগ করেন ৬৬ রান। ৯.৫ ওভারে এসে ভাঙে ৪৩ বলে ৬০ রানের এই জুটি। পারভেজ ইমন আউট হন ২৮ বলে ৪৩ রান করে। তবে লিটন থামেননি, সাইফকে নিয়ে এগিয়ে যান।
তাদের জুটিতেও আসে পঞ্চাশোর্ধ রান। ৩১ বলে ৫২ রান যোগ করেন লিটন ও সাইফ। ১৫ ওভার শেষে লিটনের বিদায়ে ভাঙে যুগলবন্দী, আউট হবার আগে অবশ্য ক্যারিয়ারের ১৬তম ফিফটি (৩৭ বলে ৫৭) পেয়ে যান লিটন।
৩ বল পর আউট হন সাইফও, ১৭ বলে ২২ করে গ্রেথ ডিলানির শিকার হন। চাপ আরো বাড়ে এক ওভার পর তাওহীদ হৃদয় (৬) রানআউট হয়ে ফিরলে। ১৭ বল আর মাত্র ১১ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগে ১৯তম ওভারে নুরুল হাসান সোহানের (৫) স্ট্যাম্প ভাঙেন অ্যাডায়ার। তবে বিপদ বাড়তে দেননি সাইফুদ্দীন। মাঠে নেমেই চার-ছক্কায় দারুণ ফিনিশ করেছেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ২ চার ১ ছক্কায় ৭ বলে ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। সাথে শেখ মেহেদী ছিলেন ৩ বলে ৬ রান নিয়ে।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী হয়ে উঠে আয়ারল্যান্ড। প্রথম ওভার থেকেই বাংলাদেশের ওপর চড়াও হন পল স্টার্লিং ও টিম টেক্টর। মাত্র ২৫ বলেই পেরিয়ে যায় ৫০ রানের গণ্ডি।
আগের ম্যাচে বড় পুঁজি পেয়েছিল আইরিশরা, আজ (শনিবার) চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও সেই পথেই হাঁটতে থাকে তারা। পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেট হারিয়ে তুলে ৭৫ রান। প্রথম উইকেটটি আসে ৪.৪ ওভারে
পল স্টার্লিংকে ফেরান তানজিম সাকিব। যদিও সেই ওভারেও এসেছে ১৪ রান। স্টার্লিং আউট হন ১৪ বলে ২৯ করে সাইফ হাসানের দারুণ ক্যাচের শিকার হয়ে। দ্বিতীয় উইকেটের পতন হয় ৮.১ ওভারে, ৮৮ রানে।
শেখ মেহেদীর আর্ম ডেলিভারিতে ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলার চেষ্টায় স্টাম্পিং হয়েছেন টিম। ২৫ বলে ৩৮ রান করেছেন তিনি। একই ওভারের পঞ্চম বলে হ্যারি টেক্টরকেও (১১) ফিরিয়েছেন তিনি।
দ্রুত ২ উইকেট হারানোর পর কিছুটা গতি কমে আয়ারল্যান্ডের ইনিংসের। তবে এর মাঝেই ১১ ওভারে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছায় আয়ারল্যান্ড। যদিও একই ওভারে আরো একটি উইকেট হারায় তারা, ফেরান বেঞ্জামিন ক্লেটিজকে (৭)।
১০.৩ ওভারে ১০৩ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন লরকান টাকার ও জর্জে ডকরেল। দু'জনের জুটিতে ৪৪ বলে যোগ হয় ৫৬ রান। ডকরেল আউট হন ১৮.২ ওভারে ২১ বলে ১৮ করে।
লরকান টাকার রান আউট হন ইনিংসের শেষ বলে। ফেরার আগে করেন ৩২ বলে ৪১ রান। তাতে ১৭০ রানে পৌঁছায় আইরিশরা। বাংলাদেশের হয়ে শেখ মেহেদী ২৫ রানে ৩ উইকেট নেন।