২০১২ থেকে ২০১৮- এই ছয় বছরে এশিয়া কাপের চার আসরের তিনটিতে ফাইনাল খেলে বাংলাদেশ। এরপর থেকে শুধুই হতাশা। মাঝে গ্রুপ পর্বেও থেমেছে যাত্রা। তবে এবার সে সব গণ্ডি পেরিয়ে স্মরণীয় কিছু করতে চায় বাংলাদেশ।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে মাঠে গড়াচ্ছে এশিয়া কাপের নতুন আরো একটি আসর। আরব আমিরাতে হবে এবারের আয়োজন। সেখানে যাওয়ার আগে নিজেদেরকে ভালোভাবে প্রস্তুত বলছেন অধিনায়ক লিটন দাস।
এশিয়া কাপের তৃতীয় দিন ১১ সেপ্টেম্বর হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ। সেই মিশনে যাওয়ার আগে ঘরের মাঠে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সদ্যই সিরিজ জিতেছে লিটনের দল।
তবে নেদারল্যান্ডস নয়, সব কিছু ঠিক থাকলে আগস্টে ভারতের বিপক্ষে খেলে এশিয়া কাপে উড়াল দিতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু হুট করেই সেই সফর স্থগিত করে দিয়েছে ভারত। তাই তড়িঘড়ি করে আনা হয় ডাচদের।
নেদারল্যান্ডসকে ডেকে এনে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। শক্তি-সামর্থ্যে অনেক পিছিয়ে থাকা দলটির বিপক্ষে প্রত্যাশিত ফলই পেয়েছে বাংলাদেশ। অনায়াসেই জিতেছে সিরিজ।
প্রথম দু’টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ন্যুনতম লড়াইও করতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। বোলারদের দাপুটে পারফরম্যান্সে খুব সহজেই জয় পায় স্বাগতিকরা। বুধবার সিরিজের শেষ ম্যাচে অবশ্য কোনো ফল আসেনি।
সিরিজে প্রথম আগে ব্যাট করে ১৮.২ ওভারে ১৬৪ রান করে বাংলাদেশ। এরপর বৃষ্টির কারণে আর খেলায় যায়নি। তাই এশিয়া কাপের আগে শেষ ম্যাচে বোলারদের অনুশীলনের সুযোগ মেলেনি।
তবে সার্বিকভাবে দলের প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট লিটন। সিরিজ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের পুরোপুরি প্রস্তুত ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
তিনি বলেন, ‘এশিয়া কাপের জন্য আমরা ভালোভাবে প্রস্তুত। শুরুতেই বলেছি, আমরা যে ক্যাম্পটা করেছি সেটা শুধু এই সিরিজের জন্য নয়। আমাদের সামনে যত সিরিজ থাকবে, সেগুলোর জন্যও যেন প্রস্তুত থাকতে পারি। এত ভালো ক্যাম্প আমি কখনো দেখিনি।’
সিরিজ নিশ্চিত হবার পর সব ক্রিকেটারকে পরখ করে নিতে বুধবারের ম্যাচে পাঁচ পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ। ফলে সিরিজে প্রথমবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পান তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলি, সোহান ও শামিম পাটোয়ারি।
স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে শুধু মোহাম্মদ সাইফুদ্দীনই কোনো ম্যাচে কিছু করতে পারেননি। শেষ ম্যাচের একাদশে থাকলেও ব্যাটি-বোলিং কিছুই করা হয়নি। তা নিয়ে অবশ্য আক্ষেপ আছে লিটনের।
বৃষ্টি না এলে হয়তো শেষ ম্যাচে বোলিংয়ের সুযোগ পেতেন সাইফুদ্দীন। আক্ষেপ থাকলেও সবদিক থেকে সার্বিকভাবে ইতিবাচক থাকার কথাই বলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। লিটন বলেন, ‘সব দিক দিয়ে আমার মনে হয়েছে, পজিটিভ। যারা ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে, ভালো খেলেছে। শুধু সাইফুদ্দীন কিছুই করতে পারেনি। বাকি সবার অন্তত একটা হলেও ম্যাচের সুযোগ হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় অনুশীলন করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি ম্যাচে কতটা ডেলিভার করতে পারছেন। ম্যাচ খেললে আপনার উন্নতি বাড়বে, গেম সেন্স বাড়বে।’
এসময় এশিয়া কাপে নিজেদের লক্ষ্যের কথাও বলেন লিটন। বলেন, ‘এশিয়া কাপে আমার লক্ষ্য ভালো ক্রিকেট খেলা। এর ওপরে তো কিছু নেই। আর ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলেই ম্যাচে জয় আসবে।’