বেঁচে রইল ভারতের আশা, হাতছাড়া হয়নি। ঘুরে দাঁড়িয়ে পরাজয় এড়ালো ওল্ড টাফোর্ড টেস্টে, সুন্দর-জাদেজার জুটির জোড়া সেঞ্চুরিতে মিললো স্বস্তির ড্র। শেষ ম্যাচটা রূপ নিলো অলিখিত ফাইনালে।

ওল্ড ট্রাফোর্ডে প্রথম ইনিংসে ভারতের ৩৫৮ রানের বিপরীতে ইংল্যান্ডের ইনিংস থামে ৬৬৯ রানে। ৩১১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা ভারত ৪ উইকেটে ৪২৫ রান তুলে কাটিয়ে দিয়েছে শেষ দিন।

পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম তিন টেস্ট শেষে ইংলিশরা এগিয়ে ছিল ২-১ ব্যবধানে। ম্যানচেস্টারের এই টেস্ট দুই দল মাঠে নামে ভিন্ন দুই লক্ষ্য নিয়ে। ইংল্যান্ডের সামনে ছিল এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয়ের সুযোগ।

ভারতের চাওয়া ছিল লড়াইয়ে ফেরার। তবে তার জন্য জিততে হতো তাদের। তবে ম্যাচটা ড্র হওয়ায় শেষ ম্যাচটা হয়ে উঠলো আরো গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে জয় পেলে ইংলিশরা সিরিজ জিতবে, আর হারলে হবে ড্র।

বিপরীতে ভারত জয় পেলেও সিরিজ দখলে নেয়ার সম্ভাবনা নেই আর। লণ্ডনে জিতলেও সিরিজ হবে ২-২ ড্র। আর হেরে গেলে বা ড্র করলে উদযাপনে মাতবে স্বাগতিকেরা।

৩১১ রানের লিড ভাঙতে নেমে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল ভারত। কোনো রান যোগ করার আগেই হারায় দুই ওপেনারকে। ক্রিস ওকস টানা দুই বলে তুলে নেন যশস্বী জয়সাওয়াল ও সাই সুদর্শনকে।

এরপর ভারতকে লড়াইয়ে ফেরান অধিনায়ক শুভমান গিল ও লোকেশ রাহুল। দু’জনে নিরাপদে শেষ করেন চতুর্থ দিন, আর কোনো সুযোগ দেননি স্বাগতিকদের। ১৭৪ রানের সবটাই তাদের জুটিতে।

শতকের সম্ভাবনা নিয়ে দু’জনে শুরু করেন দিন। লোকেশ রাহুল ৮৭ ও শুভমান গিল মাঠে নামের ৭৮ রান নিয়ে। তবে এদিন সকাল সকাল ভাঙে তাদের জুটি, আর মাত্র ৩ রান যোগ করেই ফেরেন রাহুল (৯০)।

চোটের কারণে শেষ দিনে এসে বেন স্টোকস বোলিং করতে পারবেন কিনা সেটা সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে বল হাতে নিয়েই স্বাগতিকদের উইকেট এনে দেন ইংলিশ অধিনায়ক।

রাহুপ ফিরলেও অন্যপ্রান্ত আগলে রাখেন গিল। ২২৮ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। সেঞ্চুরি করার পথে গড়েন বেশ কয়েকটি রেকর্ড। অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফির চলতি সিরিজে গিলের একটি চতুর্থ সেঞ্চুরি।

তাতে এক সিরিজে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির তালিকায় ব্র্যাডম্যান ও সুনিল গাভাস্কারের পাশে নাম লেখান তিনি। আরেক রেকর্ডে ছাড়িয়ে গেছেন ব্র্যাডম্যানকেও। অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম সিরিজে গিলের চেয়ে সেঞ্চুরি নেই কারো।

তিনটি করে সেঞ্চুরির রেকর্ড আছে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রং, ব্র্যাডম্যান, গ্রেগ চ্যাপেল, বিরাট কোহলি ও স্টিভ স্মিথের। সেঞ্চুরির আগে অবশ্য আরেকটি রেকর্ডে গাভাস্কার ও যশস্বী জয়সাওয়ালকে ছুঁয়েছেন গিল।

ভারতের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে কোনো এক সিরিজে ৭০০ -এর বেশি রান করেছেন তিনি (৭২২)। এখনো অবশ্য আরো একটা ম্যাচ পাচ্ছেন গিল। দেখা যাক আর কতোটা দৌঁড়াতে পারেন তিনি।

সেঞ্চুরির একটু পরই গিলকে ফেরান জফরা আর্চার। ২৩৮ বলে ১০৩ রানে ফেরেন তিনি। আর এখানেই শেষবার আনন্দের উপলক্ষ পায় ইংল্যান্ড। বাকিটা সময় তাদের বোলারদের দিতে হয়েছে ধৈর্যের পরীক্ষা।

অধিনায়ক ফেরার পর ভারতের হয়ে হাল ধরেন ওয়াশিংটন সুন্দর ও রবিন্দ্র জাদেজা। শুরু থেকেই একদম দেখেশুনে খেলছিলেন তারা। সাবধানী ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন ড্রয়ের দিকে।

দারুণ ব্যাটিংয়ে একশ রানের জুটিও গড়েন তারা। দু’জনে তুলে নেন ফিফটি। ইংল্যান্ডে চলতি সফরে পাঁচটি পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলেছেন জাদেজা। ১৯৬৬ সালে করা স্যার গ্যারি সোবার্সের পর জাদেজাই প্রথম।

মাঝে ইনিংস হারের শঙ্কা কাটিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে লিডও নেয় ভারত। এরপর দ্রুততার সাথে রান তুলে ভারতের লিড বাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন ওয়াশিংটন ও জাদেজা। একটা সময় দু’জনেই পান সেঞ্চুরির দেখা।

পঞ্চম উইকেটে ২০৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়া জাদেজা ১৮৫ বলে ১০৭ ও সুন্দর ২০৬ বলে ১০১ রানে অপরাজিত ছিলেন। ততক্ষণে ১১৪ রানের লিড পেয়ে গেছে ভারত।

অবশ্য স্টোকস যখন প্রথমবার ড্রর প্রস্তাব দেন তখন ভারত এগিয়ে ছিল ৭৫ রানে। তবে ওয়াশিংটন ও জাদেজা দু’জনেই সেঞ্চুরির দুয়ারে থাকায় তা মেনে নেননি অধিনায়ক শুভমান গিল।

ব্যাট হাতে ১৪১ রান ও বল হাতে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন বেন স্টোকস।