মাসখানেকের বিরতির পর আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ। এর মাঝে হয়েছে তিন সপ্তাহের প্রস্তুতি ক্যাম্প। নেয়া হয়েছে পাওয়ার হিটিং দীক্ষা। খেলা হয়েছে নিজেদের মাঝে ফ্রেন্ডলি ম্যাচও।

যার সবকিছুই এশিয়া কাপকে সামনে রেখে, মহাদেশীয় এই টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি হিসেবে। তবে সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে আজ থেকে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে পূর্ণতা পাবে প্রস্তুতি।

বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস মুখোমুখি হয়েছে বেশ কয়েকবার। তবে ২০১১ বিশ্বকাপে সবশেষ বাংলাদেশের মাটিতে টাইগারদের বিপক্ষে ম্যাচ খেলেছে তারা। ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ছিল ডাচরা।

তবে সেবার সাতটি ম্যাচ খেললেও স্বাগতিকদের বিপক্ষে কোনো খেলা ছিল না নেদারল্যান্ডসের। সব মিলিয়ে এবারই প্রথম কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছে নেদারল্যান্ডস দল।

নেদারল্যান্ডস সিরিজ শেষ হওয়ার সপ্তাহখানেক পরেই লিটন-তাসকিনদের নামতে হবে এশিয়া কাপে। নিজেদের গুছিয়ে নেয়ার শেষ সুযোগ এই তিনটা ম্যাচ। তবে আছে সব এলোমেলো হয়ে যাওয়ার শঙ্কাও।

এই সিরিজ দিয়ে যেমন আত্মবিশ্বাসের রসদ পেতে পারে বাংলাদেশ, তেমনি হতে পারে উল্টোও। সিরিজে ভুল কিছু হলে উঠবে সমালোচনার ঝড়ও। এই ঝুঁকি মাথায় রেখেই বাংলাদেশ খেলতে নামছে ডাচদের বিপক্ষে।

ঝুঁকির ভাবনাটা অমূলক নয়। গত ভারত বিশ্বকাপেও তো দলটার কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। তিন ওয়ানডে খেলে দু’টিতেই হেরেছে টাইগাররা, পাঁচ টি-টোয়েন্টি খেলে হেরেছে এক ম্যাচে।

খুব একটা ব্যবধান নেই র‍্যাঙ্কিংয়েও। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিং ১০, নেদারল্যান্ডসের ১৩। ফলে ফেভারিট বলে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। যেকোনো সময় হতে পারে যেকোনো কিছুই। ভালো খেলাটাই হতে হবে লক্ষ্য।

এই লক্ষ্যের কথাই গত দুই দিন ধরে শুনাচ্ছে বাংলাদেশ। আগের দিন অধিনায়ক লিটন দাসের পর শুক্রবার একই সুরে কথা বলেছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্সও। স্পষ্টই বলেছেন জয়-পরাজয় যাই হোক, ভালো খেলাটাই লক্ষ্য।

এদিকে এশিয়া কাপের প্রস্তুতির জন্যই এ সিরিজটি আয়োজন করা হচ্ছে। ফলে ডাচদের বিপক্ষে হারলে এশিয়া কাপের প্রস্তুতি নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠবে। তবে সিমন্স মনে করেন হারলে সমালোচনা সহ্য করতেই হবে।

তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারলেও সমালোচনা হবে। টেবিলের নিচের দিকে হারলেও হবে। নির্দিষ্ট দিনে ভালো না খেললে সমালোচনা আমাদের প্রাপ্য। কার সাথে হারছি তা নিয়ে ভাবছি না। আমরা যদি ভালো খেলতে পারি, তাহলেই জিতব।’

নেদারল্যান্ডসকে ছোটো দল বলে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন সিমন্স। তারাও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলে। সিমন্স মনে করিয়ে দিয়েছেন নেদারল্যান্ডস সর্বশেষ দু’টি বিশ্বকাপেই খেলেছে।

সিমন্সের ভাষ্য, ‘ন্যাশনাল নয়, তারা ইন্টারন্যাশনল দল। আগের দুই বিশ্বকাপে খেলেছে। ভালো খেলেছে। বর্তমান বিশ্বে সবাই ভালো দল। ক্রিকেটে কাউকে আন্ডাররেইট করতে পারবেন না। সবাই ভালো ক্রিকেট খেলছে। আমাদেরও ভালো ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যেতে হবে।’

তবে প্রতিপক্ষ দলের প্রধান কোচ রায়ান কুক হতে পারেন হুমকি। বাংলাদেশ দলের সাবেক ফিল্ডিং কোচ ছিলেন তিনি। ফলে ভেতরের খবর অনেকটাই জানা তার। তাই দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তিনিও।

বলেন, ‘আমরা যদি মনে করতাম আমরা জিততে পারব না, তাহলে এখানে আসতাম না। আমাদের যা আছে, সেটা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী যে বাংলাদেশকে হারাতে পারব।’

এখন দেখার বিষয় কতটা ভালো খেলতে পারে বাংলাদেশ, না কি ডাচদের আত্মবিশ্বাসের জয় হয়! তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।