ইতিহাস গড়া জয় পেল অস্ট্রেলিয়া। ভেঙে দিল পুরনো সব রেকর্ড। বিশ্বকাপ ইতিহাসের তো বটেই, নারী ক্রিকেট ইতিহাসেরই সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিতেছে অজি কন্যারা। স্তব্ধ করে দিল ভারতকে।

অথচ বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের সর্বোচ্চ ৩৩০ রান তুলে স্বস্তিতেই ছিল ভারত। নারী ক্রিকেটে এতো রান তাড়া করে আগে কখনো জেতেনি কোনো দল। তবে সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে অজি কন্যারা।

তবে দুর্গম ঘিরি পাড়ি দিয়ে রেকর্ড গড়েই জয় ছিনিয়ে এনেছে অজিরা। রেকর্ড সাতবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার ৩৩১ রানের লক্ষ্য ছুঁয়েছে ৬ বল ও ৩ উইকেট হাতে রেখেই।

মেয়েদের ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ডটা ছিল শ্রীলঙ্কার। গত বছর পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকার ৩০২ রানের পুঁজি ৩৩ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়েছিল লঙ্কান নারীরা। এবার তা পেরিয়ে গেল অজিরা।

রোববার (১২ অক্টোবর) নারী বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হয় ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। যেখানে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রতিকা রাওয়াল ও স্মৃতি মান্ধানার ১৫৫ রানের অনবদ্য জুটিতে ভর করে ৩৩০ রান সংগ্রহ করে ভারত।

প্রতিকা ও স্মৃতি- দু’জনই শতক ছোঁয়ার পথে ছিলেন, তবে তা হয়নি। প্রতিকা ফেরেন ৭৫ রান নিয়ে, আর স্মৃতি করেন ৮০ রান। পরে দেওল ও হারমানপ্রীত কৌরের ছোট ছোট ইনিংসে ৪৮.৫ ওভারে এই সংগ্রহ পায় তারা।

ভারতের দেয়া আসরের সর্বোচ্চ রান তাড়ায় নেমে বিধ্বংসী ইনিংস উপহার দেন অ্যালিসা হিলি। তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। তার ১০৭ বলে ১৪২ রানের ইনিংসে ছিল ২১টি চার ও ৩টি ছক্কা।

ফিবি লিচফিল্ডকে নিয়ে ঝড়ের বেগেই শুরু করেন রান তাড়া। ১১.২ ওভারেই উদ্বোধনী জুটিতে উঠে যায় ৮৫ রান। ৩৯ বলে ৪০ রান করে লিচফিল্ড ফেরার পর এলিস পেরিকে নিয়ে ৬৯ রানের জুটি হিলির।

জুটি ভাঙে পেরি আহত হয়ে উঠে যাওয়ার পর। যাওয়ার আগে ৩২ রান ছিল তার। তবে এরপর দ্রুত ফেরেন বেথ মুনি ও অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডক। ১৭০ রানে ৩ উইকেট খোয়ানোর ধাক্কা সামলে নেন হিলি।

তাহলিয়া ম্যাকগ্রাকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৯৫ রান যোগ করেন তিনি। এরপর হিলি যখন বিদায় নিলেন, অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ৩৮.৫ ওভারে ২৬৫/৪। তবে তখনো ম্যাচে ফেরার আশা বাঁচিয়ে রাখে ভারত।

দ্রুত ৩টি উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ৩০৩/৭ বানিয়ে দেয়। এরপর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেম চোট পেয়ে মাঠ ছেড়ে উঠা পেরি, ৪৭ রানে অপরাজিত থেকে ১ ওভার হাতে রেখেই নিশ্চিত করেন জয়।