এবারো গেরো কেটে বের হতে পারলো না মু্ম্বাই। আরো একবার সেই একই চিত্র, একই গল্প। আরো একবার হার দিয়ে আসর শুরু সর্বোচ্চ শিরোপাজয়ী দলটার। এই নিয়ে টানা তেরো বার!
উদ্বোধনী ম্যাচে হার যেন অমোঘ নীতিতে পরিণত হয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের। ব্যতিক্রম নয় এবারো। আইপিএলের এবারের আসর শুরু করেছে তারা চেন্নাইয়ের কাছে হেরে। আহমেদাবাদে চেন্নাই সুপার কিংসের জয় ৪ উইকেটে।
রোববার (২৩ মার্চ) রাতে টসে হেরে আগে ব্যাট করে মুম্বাই। যেখানে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ৯ উইকেটে ১৫৪ রান তুলে তারা। জবাবে ৬ উইকেট হারালেও শেষ পর্যন্ত ১৯.১ ওভারে জয় নিশ্চিত করে মাহেন্দ্র সিং ধোনির দল।
এই নিয়ে আইপিলে টানা ১৩ মৌসুম নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে হারলো মুম্বাই। সর্বশেষ নিজেদের খেলা প্রথম ম্যাচে জিতেছিল ২০১২ সালে। এরপর থেকেই প্রথম ম্যাচে জয় অধরা দলটার।
মুম্বাই আজ হেরে গেছে ব্যাটিং ব্যর্থতায়। তারকাখচিত দল গড়েও ব্যাটিং ছিল নড়বড়ে। ব্যর্থ ছিলেন রোহিত শর্মাও, ৪ বল খেলে কোনো রান করতে পারেননি তিনি। যা আইপিএলে তার ১৮তম ডাক।
তাতেই গড়েছেন এই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ডাক মারার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড। তবে তিনি একা নয়, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও দীনেশ কার্তিকে সাথে পাচ্ছেন তিনি। আইপিএলে তাদেরও আছে সমান ১৮টি শূন্য।
ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে তিলক ভার্মার ২৫ বলে ৩১ ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের ২৬ বলে ২৯ রান মুম্বাইকে কিছুটা চ্যালেঞ্জ করার মতো স্কোর এনে দেয়। শেষ দিকে দীপক চাহার খেলেন ১৫ বলে ২৮ রানের ঝড়ো ইনিংস।
চেন্নাইয়ের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার নুর আহমেদ। ৪ ওভারে ১৮ রান খরচায় নেন ৪ উইকেট। হয়েছেন ম্যাচ সেরাও। এছাড়াও খালিল আহমেদ পেয়েছেন ৩ উইকেট।
রান তাড়ায় চেন্নাইয়ের জয়ের ভিত্তি গড়েন দেন রুতুরাজ গায়কোয়াড় ও রাচিন রবীন্দ্র। দ্বিতীয় উইকেটে ৬৭ রান যোগ করেন দু’জনে। ২৬ বলে ৫৩ রান করেন অধিনায়ক গায়কোয়াড় আউট হলে ভাঙে জুটি।
তার বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে চেন্নাই। ১১৬ রানে হারিয়ে ফেলে ৫ উইকেট। তবে রাচিন এক প্রান্ত ধরে রেখে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। তিনি ৪৫ বলে ৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
হারালেও অধিনায়ক গায়কোয়াড়কে নিয়ে সহজ জয়ের দিকেই দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন রাচিন। তবে ২৬ বলে ৫৩ রান করে গায়কোয়াড় আউট হলে কিছুটা চাপে পড়ে চেন্নাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাচিনের বীরত্বে সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে চেন্নাই। কিউই এই অলরাউন্ডার ৪৫ বলে ৬৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। মুম্বাইয়ের হয়ে ৩২ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন ভিগনেশ পুথুর।
অথচ জয়ের পথেই ছিল মুম্বাই। এই ম্যাচ হেরে যাবে তারা তা কস্মিনকালেও ভাবেনি কেউ। ১৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়েই তুলে ফেলে ১২৬ রান। জয়ের জন্য প্রয়োজন তখন ৩০ বলে প্রয়োজন মাত্র ৪৩ রান, হাতে ৭ উইকেট। তবে এই সহজ সমীকরণও মেলাতে পারেনি হার্দিক পান্ডিয়ার দল।
এই নিয়ে আইপিলে টানা ১৩ মৌসুম নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে হারলো মুম্বাই। সর্বশেষ নিজেদের খেলা প্রথম ম্যাচে জিতেছিল ২০১২ সালে। এরপর থেকেই প্রথম ম্যাচে জয় অধরা দলটার।
গুজরাটের হয়ে এদিন রানের দেখা পান সকলেই, তবে ইনিংস বড় হয়নি কারো। সর্বোচ্চ ৩৯ বলে ৪৫ রান আসে সাই সুদর্শনের ব্যাটে। শুভমান গিল করেন ২২ বলে ৩১ রান। রাহুল তিওয়াতিয়া ১৫ বলে ২২ ও ঋদ্ধিমান সাহা করেন ১৯ রান।
গুজরাটী ব্যাটারদের থিতু হননি জাসপ্রিত বুমরাহ। মাত্র ১৪ রানে ৩ উইকেট তুলেন তিনি। দুটো উইকেট নেন জেরাল্ড কোয়েটজে।
জবাব দিতে নেমে ইশান কিষানকে শুরুতেই (০) হারালেও রোহিত শর্মা জ্বলে উঠেন। তিনে না নামান ধির ১০ বলে ২০ করে আউট হলেও ব্রেভিসকে নিয়ে ১২ ওভারে ১০৭ রান তুলেন রোহিত। রোহিত আউট হন ২৯ বলে ৪৩ রানে।
তবে এরপরই পথ হারায় মুম্বাই। ১৫.৫ ওভারে ব্রেভিস ৩৮ বলে ৪৬ করে আউট হন। এরপর তিলক ভার্মা ১৯ বলে ২৫ ও টিম ডেভিড আর হার্দিক পান্ডিয়া সমান ১১ রান করলেও তা জেতাতে পারেনি মুম্বাইকে। দুটো করে উইকেট নেন মোহিত শর্মা, উমেশ যাদব, ওমরজাই ও স্পেনসার জনসন।