জাতীয় দলের প্যানেলে দেশী কোচদের সুযোগ দেয়ার দাবি ছিল অনেকদিনের। সেই দাবি অনেকটাই পূরণ হয় মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনকে সহকারী কোচ করার পর। কিন্তু এখন আবারো শুরু হয়েছে আলোচনা।
তবে এবার পক্ষে নয়, নেতিবাচকভাবে আলোচনায় সালাহউদ্দিন। তাকে নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ। বিশেষ করে ব্যাটারদের টানা ব্যর্থতায় প্রশ্ন উঠছে তাকে নিয়ে। তার অধীনে যেন ওয়ানডেতে ব্যাট করতেই ভুলে গেছে দল।
গত নভেম্বরে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ পান সালাহউদ্দিন। প্রথমে শুধু সহকারী এরপর গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষে ডেভিড হেম্পের বদলে ব্যাটিং কোচ করা হয় তাকে।
তার আমলে এখন পর্যন্ত ১০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে টাইগাররা। যার মধ্যে তারা ৯টিতেই হেরেছে। এমন ব্যর্থতার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ব্যাটিং দুর্বলতা। ব্যাট হাতে একেবারেই নিস্প্রভ টাইগাররা।
এই ১০ ইনিংসের মধ্যে ৬ ম্যাচেই ২৫০ রান পেরোতে পারেনি শান্ত-মিরাজরা। এছাড়া দুই শ’র নিচেই অলআউট হয়েছে দু’বার, মোটে একবার তারা ৩০০ পেরিয়েছে বাংলাদেশ।
পরিকল্পনায় ঘাটতি, ব্যাটিং অর্ডারে হুটহাট পরিবর্তন স্পষ্ট। এদিকে শট নির্বাচনেও দেখা যাচ্ছে দায়সারা মনোভাব- সব মিলিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যাট হাতে বাংলাদেশ যেন নিজেদের হারিয়ে খুঁজছে।
এই যখন অবস্থা, তখন সালাহউদ্দিনকে ক্রিকেট পাড়ায় সমালোচনা চলছে জোরেশোরে। তাকে ঘিরে যে প্রত্যাশা ছিল একটা সময়, কালের পরিক্রমায় সেই প্রত্যাশার বেলুনটা ধীরে ধীরে মিইয়ে যাচ্ছে। ভরসা হারাচ্ছেন তিনি।
অনেকেই দাবি তুলেছেন ভালো মানের বিশেষজ্ঞ ব্যাটিং কোচ নিয়োগের। একই সুরে কথা বলেছেন সাবেক ক্রিকেটার ও প্রধান নির্বাচল মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। তবে সালাহউদ্দিনকে একা দায়ী করছেন না তিনি।
নান্নু বলেন, ‘ব্যাটিং নিয়ে তো আমরা অনেকদিন ধরে সমস্যায় ভুগছি। ভালো বিশেষজ্ঞ ব্যাটিং কোচ দরকার আসলে। শুধু জাতীয় দল না, বয়সভিত্তিক দল বা এইচপি ক্রিকেট সব জায়গায় এমন কোচ দরকার। আমাদের এসব বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করে এগোতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘কাউকে ব্যক্তিগতভাবে দোষ দেয়া ঠিক হবে না। পুরো দলটাকেই দেখতে হবে, এখানে তো আরো অনেক কোচ আছেন।’