অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে বল হাতে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন বাংলাদেশের রহস্যময় স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল। ৯ দলের এই টুর্নামেন্টে ১০ ম্যাচে সর্বোচ্চ ২৩ উইকেট নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন তিনি। জাতীয় দলে এখনো সুযোগ না পেলেও তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ক্রিকেটসংশ্লিষ্টরা।
তবে রুবেলের বয়স নিয়ে একটা প্রশ্ন থাকছেই। ৩০ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলে সেটি কি খুব দেরি হয়ে যাবে? জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের অবশ্য সেটিকে সমস্যা মনে হচ্ছে না। বরং দেরিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেও সাফল্যের শিখরে ওঠা অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি মাইক হাসির উদাহরণ টেনেছেন তিনি।
ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে বাশার বলেন, ‘আমরা তাকে (রুবেল) গত বছরের বিপিএল থেকে নজরে রেখেছি। যে নিয়মিত মিস্ট্রি বল করে আসছে। এমনকি সে ভালো একজন ফিল্ডারও। যদিও সে অতটা তরুণ নয়, কিন্তু মাইক হাসিও আন্তর্জাতিক অভিষেক (২৮ বছর বয়সে ওয়ানডে, ৩০ বছর বয়সে টেস্ট) করেছিলেন বেশ দেরিতে। পরে তিনি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা ব্যাটারে পরিণত হন। রুবেলের ক্ষেত্রেও বয়স বাধা হবে না।’
দেরিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেও মাইক হাসি হয়ে উঠেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা ব্যাটার। ৭৯ টেস্টে ৫১.৫২ গড়ে তার রান ৬২৩৫, সেঞ্চুরি ১৯টি। ওয়ানডেতে ১৮৫ ম্যাচে ৪৮.১৫ গড়ে করেছেন ৫৪৪২ রান। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার রান ১২,৩৯৮ এবং সেঞ্চুরি ২২টি। ২০০৬ সালে ওয়ানডে ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষেও উঠেছিলেন তিনি।
রুবেলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও তাই তাকে নিয়ে প্রত্যাশা বাড়াচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের এক সপ্তাহ পর একই ভেন্যুতে শুরু হয় টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি। জাতীয় দলের পাইপলাইনে থাকা এবং নতুন-অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সেই টুর্নামেন্টে রুবেল একের পর এক ম্যাচে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন।
টুর্নামেন্টে তার উল্লেখযোগ্য বোলিং ফিগারগুলো ছিল—১৮ রানে ৪ উইকেট, ২৫ রানে ৩, ১৫ রানে ৪, ৩০ রানে ৩, ২১ রানে ৫ এবং ১৫ রানে ৩ উইকেট।
রুবেলের উত্থান অবশ্য হঠাৎ নয়। চট্টগ্রামের ঘরোয়া ক্রিকেট ও জাতীয় দলের নেটে নিয়মিত বল করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। গত বছর এসসিএল টি-টোয়েন্টিতে চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে সুযোগ পেয়ে নিজেকে প্রমাণ করেন। এরপর জায়গা করে নেন প্রথম শ্রেণির লাল বলের ক্রিকেটেও।
সবশেষ বিপিএলে খেলেই বড় পরিসরে আলোচনায় আসেন রুবেল। তার বোলিং অ্যাকশন অন্যদের চেয়ে আলাদা। বিশেষ করে রহস্যময় ‘দুসরা’ দিয়ে ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করার ক্ষমতাই তাকে করে তুলেছে আলাদা। এখন অপেক্ষা আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার অভিষেকের।